ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পরমাণু অস্ত্রের লালসাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কিম পুনরায় আলোচনায় বসবেন কি না, সেই জল্পনার মাঝেই ইরানের এই পরিস্থিতি পিয়ংইয়ংকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
“পরমাণু অস্ত্র নেই বলেই আক্রান্ত ইরান”
দক্ষিণ কোরিয়ার ডিজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা সং সেওং-জং বলেন, “কিম জং উন সম্ভবত মনে করছেন, ইরানের কাছে কার্যকর পরমাণু অস্ত্র নেই বলেই তাদের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার গাদ্দাফি বা ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের পরিণতির পর ইরানের এই বর্তমান পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়ার কাছে একটি ‘শিক্ষা’ হিসেবে কাজ করছে—যেখানে পরমাণু অস্ত্রই টিকে থাকার একমাত্র গ্যারান্টি।
উত্তর কোরিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া
গত রবিবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ইরানের ওপর এই সামরিক অভিযানকে অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি “আধিপত্যবাদী এবং জঘন্য” শক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানে হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে কিম জং উন তাঁর ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসে আরও বেশি পরমাণু অস্ত্র তৈরির অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের আচরণের ওপর ভিত্তি করে আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
আলোচনার টেবিল কি আবার বসবে?
২০১৮ ও ২০১৯ সালে কিম এবং ট্রাম্পের মধ্যে ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন হলেও পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা KCNA-এর তথ্যমতে, কিম জং উন বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার বর্তমান অবস্থাকে সম্মান জানিয়ে তাদের সংঘাতপূর্ণ নীতি প্রত্যাহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক না রাখার কোনো কারণ নেই।”
বর্তমানে ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করবে, নাকি আরও বেশি পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
