ডেইলি ডোমকল, গুয়াহাটি: ফের দুই মহিলাকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করল অসমের ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’। দেশ ছাড়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে ওই দুই মহিলাকে। আসমুল বাংলাদেশের এবং আফুজা বাকরাপাট্টা গ্রামের বাসিন্দা বলে দাবি প্রশাসনের। আজকের মধ্যেই তাঁদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দিয়েছে অসমের বিশ্বনাথ জেলার প্রশাসন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবদেন অনুযায়ী, আসমুল খাতুন এবং আফুজা বেগম নামে দুই মহিলাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছে অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। এই আবহে বিশ্বনাথ জেলার জেলাশাসক লক্ষীনন্দন সাহারিয়া দুই মহিলাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ‘ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম অসম) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী দেশ ছাড়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে আসমুল এবং আফুজার বিরুদ্ধে। কোন রুট দিয়ে তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই দুই মহিলাকে ধুবড়ি, শ্রীভূমি অথবা দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর সীমান্ত দিয়ে ভারতে থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। ওই নির্দেশ না মানলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর অসমের বিভিন্ন ফরেনার্স ট্রাইবুনাল নাগাঁও জেলার মোট ১৫ জন ব্যক্তিকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে। পরে জেলা প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ জারি করেছে। ইমিগ্রান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট, ১৯৫০ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তিরা ফরেনার্স ট্রাইবুনালের সামনে নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই ১৫ জন নাগাঁও জেলার বিভিন্ন থানার অধীন গ্রামগুলির বাসিন্দা।
এদিকে অসমের রাজ্য প্রশাসন ১৯ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। তাঁদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, অসমে অনুপ্রবেশকারীদের কোনও স্থান হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং আদালতের রায় কার্যকর করতে প্রশাসন কোনও আপস করবে না বলেও জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
