নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের বাজি এবার কোনো পেশাদার রাজনীতিক নন, বরং বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এক শিক্ষাব্রতী। তিনি বাবর আলি— যাঁর পরিচয় কেবল একজন শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং সমাজ সংস্কারক হিসেবেও। মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে ২৯১ আসনের যে তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে বাবর আলির নাম আসতেই খুশির হাওয়া জলঙ্গিতে।
গাছতলা থেকে রাজনীতির ময়দান: এক অনন্য সফর
বাবর আলির জীবনকাহিনী কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। মাত্র ৯ বছর বয়সে স্কুলছুট শিশুদের নিয়ে গাছতলায় পাঠশালা শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর এই অদম্য জেদ তাঁকে এনে দিয়েছে ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধান শিক্ষক’-এর শিরোপা। বর্তমানে বেলডাঙার আনন্দ শিক্ষানিকেতনের এই শিক্ষকের লড়াই ও জীবনী স্থান পেয়েছে রাজ্যের পাঠ্যপুস্তক এমনকি এনসিইআরটি পাঠ্যক্রমেও। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য দেশ-বিদেশের একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মান পকেটে পুরেছেন তিনি।
কেন বাবর আলিতেই ভরসা মমতার?
তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ‘নিষ্ক্রিয়’ বা জনবিচ্ছিন্ন বিধায়কদের সরিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষের ওপর জোর দিয়েছেন। বাবর আলির মতো একজন সমাজসেবীকে প্রার্থী করার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর বিশাল ‘প্রোফাইল’ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। মঙ্গলবার সকালেই বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান নিয়ামত শেখ ও রানিনগরের বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেনের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন বাবর আলি। আর বিকালেই তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে চমক দেয় দলীয় নেতৃত্ব।
‘দায়িত্বের পরিধি বাড়ল’, প্রতিক্রিয়া নবাগত প্রার্থীর
টিকিট পাওয়ার পর আপ্লুত বাবর আলি জানান, রাজনৈতিক ময়দান তাঁর কাছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “এতদিন একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে কাজ করেছি। এবার পরিধিটা অনেকটা বেড়ে গেল। বলতে পারেন দায়িত্বও বাড়ল। মানুষ পাশে থাকলে অবশ্যই তাঁদের ভালো করার চেষ্টা করব।” জলঙ্গি থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন এই লড়াকু শিক্ষক।
জলঙ্গির নয়া সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, জলঙ্গিতে একসময় বামেদের দাপট থাকলেও বাবর আলির মতো একজন ‘আইকন’-কে সামনে এনে তৃণমূল মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এই ‘শিক্ষক’ প্রার্থী বিরোধী শিবিরের কাছে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ান, এখন নজর সেদিকেই। শিক্ষা ও সমাজসেবার পর এবার রাজনীতির আঙিনায় বাবর আলির এই জয়যাত্রা জলঙ্গিকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যায়, তার উত্তর দেবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল।
