ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: শিশু পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের ‘যান্ত্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্ত তুলসী নামক এক মহিলার জামিন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি বিনোদ কে চন্দ্রনের বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা না করেই ‘টেমপ্লেট’ বা ধরাবাঁধা ছক ব্যবহার করে এই জামিন দেওয়া হয়েছে।
বারাণসীর রেড লাইট এলাকার কুখ্যাত পাচারকারী হিসেবে পরিচিত ওই মহিলার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৫৬’ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অপর্ণা ভাট আদালতে জানান, এলাহাবাদ হাইকোর্ট শুধুমাত্র পাঁচ বছরের কারাবাস এবং অন্য এক সহ-অভিযুক্তের জামিন পাওয়ার যুক্তিতে এই রায় দিয়েছিল। অথচ, নির্যাতিতা শিশুটি স্পষ্টভাবে ওই মহিলাকে শনাক্ত করেছে।
এদিন শুনানির সময় এলাহাবাদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিচারপতির কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম বিচারপতি সঞ্জয় কুমার। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, এই বিচারকের দেওয়া অনেক জামিন আদেশ আমি দেখেছি। এগুলি সব একই ধাঁচের আদেশ। ৩টে ৭৬ ধারা (ধর্ষণ) হোক বা ৩০২ ধারা (খুন)—সব ক্ষেত্রেই জেলের ভিড় কমানোর দোহাই দিয়ে একই ধরণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।” এরপরই বিরক্তি প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছে, “বিচারকদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছে যে একদিনে কে কত বেশি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারেন।”
এদিন উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। পাচারকারীর জামিন বাতিলের বিষয়ে রাজ্য সরকার কেন আগে সক্রিয় হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আদালত রায় দিয়ে জানিয়েছে, “হাইকোর্ট কাজের চাপে ভারাক্রান্ত হলেও, শিশু পাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে রায় দেওয়ার সময় বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করা আবশ্যিক। আমরা দেখছি, মামলার গুরুত্ব বিচার না করেই যান্ত্রিকভাবে জামিন দেওয়া হচ্ছে।” সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে ২০০৫ সাল থেকে অন্তত পাঁচটি অপরাধমূলক মামলা চলছে, যার অধিকাংশই পাচার সংক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে তাকে জামিনে বাইরে রাখা নিরাপদ নয়। এদিন আদালত ১৯ মে, ২০২৫-এর সেই জামিন আদেশ বাতিল করে অভিযুক্তকে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।
