ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া ও কোচবিহারের অন্তর্ভুক্তি চুক্তি নিয়ে এবার খোদ নিজের দলের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেই সুর চড়ালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নগেন রায় ওরফে অনন্ত রায়। তাঁর সাফ দাবি, কোচবিহার কোনো দান বা দখলের ফল নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে ভারতভুক্ত হয়েছিল। আর সেই ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর না হলে কোচবিহারকে আলাদা করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কার্যত কেন্দ্রকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
শনিবার কোচবিহারের বানেশ্বরে বীর চিলারায়ের জন্মজয়ন্তী পালন উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন অনন্ত রায়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কোচবিহার চুক্তির মাধ্যমে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। আমরা চুক্তি ভিত্তিক ভারতীয়। সেই চুক্তি মেনে চলা কেন্দ্রীয় সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক কর্তব্য। যদি সেই চুক্তি অনুসরণ করা না হয়, তবে আমাদের আলাদা করে দেওয়া হোক।” কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “পাঁচ বছর অন্তর প্রধানমন্ত্রী বদলাতে পারেন, কিন্তু রাষ্ট্র বা দেশ তো একই থাকে। সরকার বদলালেও রাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা বদলে যেতে পারে না।”
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাই (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে কোচবিহার জুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কড়া ভাষায় সরব হন এই বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। অনন্ত রায়ের বক্তব্য, “আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে যদি নাগরিকত্বের নথি দেখানোর প্রয়োজন না থাকে, তবে কোচবিহারের ভূমিপুত্রদের কাছে কেন বারবার কাগজ চাওয়া হচ্ছে? এই বৈষম্য সাংবিধানিক সমতার পরিপন্থী।” কমিশনের এই প্রক্রিয়াকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের ভিত্তিহীন যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে জেলে ঢোকানো উচিত।”
বিজেপির ঘরের লোক হয়েও অনন্ত রায়ের এই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সুর এবং নির্বাচন কমিশনকে জেলে ভরার মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি দেশজুড়ে নাগরিকত্ব ও নথিপত্র নিয়ে কড়াকড়ি করছে, তখন দলেরই এক সাংসদ সেই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এবং স্থানীয় ভাবাবেগকে উসকে দিতেই অনন্ত রায় এই কৌশল নিয়েছেন। তবে তাঁর এই ‘আলাদা করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণে নতুন করে উত্তাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালের ২৮ আগস্ট কোচবিহারের তৎকালীন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের সঙ্গে ভারত সরকারের ‘কোচবিহার মার্জার এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ নিয়েই দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন করে আসছেন অনন্ত রায়।
