ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের মুখে কেরালার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে পাঠানো একটি সরকারি চিঠিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সিল বা লোগো থাকা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেরালার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রতন ইউ কেলকার সোমবার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে পাঠানো একটি সরকারি চিঠিতে বিজেপির সিল থাকা আদতে একটি “কেরানিভুল” (Clerical Error)। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে বিজেপি কেরল ইউনিটের জমা দেওয়া একটি নথির বয়ান ভুলবশত বর্তমান সার্কুলারে ব্যবহৃত হয়েছে। গত ২১ মার্চ এই ভুল ধরা পড়ার পরেই চিঠিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ওই চিঠিটি উপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির। সিপিএম ইতিপূর্বেই এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন। অভিষেকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্যানেল থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) সরিয়ে দেওয়ার ফলেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই ধারা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের রায়গুলোকেও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে মনে হবে।” যাঁরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন, তাঁরাই আজ রাজনৈতিক স্বার্থে সংবিধানের ভিত আলগা করছেন। একে “কর্তব্য এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা” বলে অভিহিত করেছেন তৃণমূল সাংসদ।
মূলত প্রার্থীদের অপরাধমূলক নথির (Criminal Antecedents) তথ্য প্রকাশের নির্দেশিকা সংক্রান্ত একটি চিঠিতে এই বিভ্রাট ঘটে। বিরোধীদের দাবি, সরকারি দপ্তরে শাসক দলের লোগো সম্বলিত ফরম্যাট থাকা প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক স্তরে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে নিছক ‘ওভারসাইট’ বা নজর এড়িয়ে যাওয়া ভুল বলে দাবি করলেও, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
উল্লেখ্য, গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন আইন পাশ করে, যেখানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটির বর্তমান সদস্য হলেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং একজন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী। এই নতুন কাঠামোর ফলেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
