TOP NEWS

কানাডায় ১০-১২ জনের মারে মৃত্যু উজ্জয়িনীর মেধাবী ছাত্রের, বিচারের আশায় পরিবার

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বাবার ব্যবসার হাল ধরবেন বলে বড় স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪-এর শুরুতে কানাডায় পাড়ি দিয়েছিলেন গুরকিরাত সিং মানোচা। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ফোর্ট সেন্ট জন এলাকায় একদল উন্মত্ত যুবকের হাতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন বছর কুড়ির ভারতীয় এক ছাত্র। অভিযোগ, ১০-১২ জন মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করার পর গাড়ির তলায় পিষে দেয়।

জানা গিয়েছে, উজ্জয়িনীর বাসিন্দা গুরকিরাত ব্রিটিশ কলম্বিয়ার নর্দান লাইটস কলেজে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করছিলেন। সপ্তাহের চারদিন ক্লাস আর বাকি তিনদিন স্থানীয় একটি ওয়ালমার্টে কাজ করতেন তিনি। লক্ষ্য ছিল পড়াশোনা শেষ করে ভারতে ফিরে বাবার খাদ্য সরবরাহ ব্যবসায় নতুন দিশা দেখানো। কিন্তু গত ১৪ই মার্চ রাতের এক নারকীয় ঘটনা সব বদলে দিল।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

গুরকিরাতের বড় ভাই প্রবকিরাত সিং জানান, ওই রাতে কাজ শেষ হওয়ার পর সহপাঠীদের একটি দলের সঙ্গেই বেরিয়েছিলেন গুরকিরাত। সাধারণ আড্ডার মাঝে হঠাৎই কোনো বিষয়ে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই বচসা হাতাহাতির রূপ নিলে ১০-১২ জন মিলে গুরকিরাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ ইতিমিধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।

ছেলের শেষ মুহূর্তের স্মৃতি হাতড়ে বাবা গুরপ্রীত সিং বলেন, “ঘটনার আগের দিনও কথা হয়েছিল। বলেছিল পড়াশোনা প্রায় শেষ, খুব তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরবে। আমার ছেলেটা নির্দোষ ছিল, ওর চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল।” বর্তমানে পরিবারটি গুরকিরাতের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন গুনছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত দেহ হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। ২০শে মার্চের মধ্যে ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই শুরু হবে মরদেহ প্রত্যাবর্তনের (Repatriation) দীর্ঘ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সব ধরণের প্রশাসনিক ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া গুরকিরাতের উজ্জয়িনীর পূর্বতন কলেজ কর্তৃপক্ষ তার সম্মানে একটি মূর্তি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে কানাডা পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!