ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: এক সময়কার বহুল আলোচিত ‘রেলওয়ে ল্যান্ড-ফর-জবস’ অথার্ৎ জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি মামলায় বড় পদক্ষেপ আদালতের। শুক্রবার রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের স্পেশাল জজ বিশাল গগনে আরজেডি সভাপতি লালু প্রসাদ যাদব, তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, লালুপুত্র তেজস্বী যাদব, তেজ প্রতাপ যাদব, মিসা ভারতীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দিল দিল্লির বিশেষ আদালত। শুক্রবার আদালত লালু যাদবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্নীতি আইন-এর ধারা অনুসারে দুর্নীতির অভিযোগ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির আরও কয়েকটি ধারায় অভিযোগ গঠন করেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিবিআইয়ের অভিযোগ, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকার সময় লালু যাদব গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে পাটনা ও অন্যান্য অঞ্চলে ভূমি হস্তান্তর করিয়ে নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী বা তাঁদের আত্মীয়রা নামমাত্র মূল্যে জমি লালু যাদবের পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নামে বিক্রি বা উপহার দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কোনও সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং গোটা ঘটনাটি ছিল পারস্পরিক বিনিময় পদ্ধতির। অভিযুক্ত পক্ষ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। এদিকে ইতিমধ্যে এই মামলায় অর্থপাচার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ছয়শো কোটির বেশি সম্পত্তি আটক করেছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই বিপুল অর্থ ‘অপরাধের উপার্জন’।
শুক্রবার আদালতের বিচারক গগনে বলেন, লালু যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা “একটি অপরাধমূলক এন্টারপ্রাইজ” হিসেবে কাজ করেছেন এবং সরকারি চাকরিকে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিনিময়ে “বিনিময়যোগ্য সম্পদ” হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
আদালতের বক্তব্য, অভিযোগপত্রে স্পষ্ট যে লালু যাদবের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ভূমি হস্তান্তর করিয়ে রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করেছেন। বিচারক বলেন, “লালু যাদব ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ডিসচার্জের আবেদন সম্পূর্ণ অমূলক।”
আদালত আরও উল্লেখ করে, যে রেল মন্ত্রণালয়কে লালু যাদব ব্যক্তিগত ফিফডম এর মতো ব্যবহার করেছিলেন।
৯৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে আদালত ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। যার মধ্যে লালু যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আছেন। অন্যদিকে ৫২ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলায় সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর ডি.পি. সিং এবং আইনজীবী মনু মিশ্র, ইমান খেরা ও গরিমা সাক্সেনা উপস্থিত ছিলেন। লালু যাদবের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনিন্দর সিং।
