TOP NEWS

মোদির সমালোচনা করলেই ‘সেন্সরশিপ’! সোশ্যাল মিডিয়ায় গণহারে পোস্ট সরানোর নির্দেশ কেন্দ্রের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি কেন্দ্রের সরকার এক্স এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যঙ্গ বা সমালোচনামূলক পোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়মাবলীর বিরুদ্ধে সমালোচনা করা অ্যাকাউন্টগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাসজুড়ে চলা এই ‘মাস টেকেডাউন’-এর ঘটনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের নির্দেশে যে সমস্ত পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সবির ভাটিয়া কর্তৃক শেয়ার করা প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃত এক শ্লোক নিয়ে পোস্ট। সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং তাদের উপর আক্রমণের সমালোচনা করা বিভিন্ন পোস্ট। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তৈরি দুটি অ্যানিমেটেড ব্যঙ্গচিত্র। ইউজিসি নিয়মাবলীর বিরুদ্ধে সরব হওয়া একাধিক রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। ‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ ভারদারাজন এই ব্যঙ্গাত্মক অ্যানিমেটেড ভিডিয়ো পুনরায় শেয়ার করলে সেটিও সরিয়ে ফেলা হয়। কংগ্রেসের দাবি, তাদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি নয়টি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই নির্দেশগুলি তথ্য প্রযুক্তি আইনের সেকশন ৬৯এ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়। এর ফলে কতগুলি পোস্ট মোট সরানো হয়েছে তার কোনো নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। কার্টুনিস্ট সতীশ আচার্য জানিয়েছেন, তিন দিনে তিনি দুটি নোটিফিকেশন পেয়েছেন। তাঁর কথায়, “সরকার যখন কোনো কার্টুন জোর করে থামানোর চেষ্টা করে, তখন তা স্বাভাবিকের চেয়ে দশ গুণ বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।”

সূত্রের খবর, তথ্য প্রযুক্তি আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনের ফলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে সরকারের নির্দেশের পর পোস্ট সরানোর জন্য এখন মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এই সময়সীমা ছিল ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হলে প্ল্যাটফর্মগুলিকে আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হয়। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি প্রায়শই তড়িঘড়ি করে পোস্টগুলি ‘জিও-ব্লক’ বা ভারতে অদৃশ্য করে দেওয়া হচ্ছে। যদিও অন্যান্য দেশে ওই পোস্টগুলি দেখা যায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে মেটার রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশে কন্টেন্ট সরানোর হার ২০২৩ সালের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনা ভারতের ডিজিটাল পরিসরে ক্রমবর্ধমান নজরদারি এবং মতপ্রকাশের সঙ্কোচনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন ডিজিটাল অধিকার কর্মীরা। তাদের বক্তব্য, এই ধরণের গোপনীয় নির্দেশিকা অসাংবিধানিক, কারণ ব্যবহারকারীদের নিজেদের পক্ষ রাখার বা শোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সেন্টার ফর ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রনেশ প্রকাশ জানিয়েছেন, এই জাতীয় নির্দেশিকা জনস্বার্থে কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ দর্শানো ছাড়াই জারি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!