ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ফ্লোরিডার ডরালে আয়োজিত ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকাস সামিট’-এ দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি এই যুদ্ধকে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয় সেবা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত আজ দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই বিপুল প্রাণহানিকে গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাম্প নিহতদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেছেন, “তারা ছিল অসুস্থ মানুষ, অত্যন্ত অসুস্থ মানুষ।” ট্রাম্প জানান, তিনি ডোভারে যাচ্ছেন সেখানে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি একে ‘খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মাত্র তিন দিনে তাদের ৪২টি নৌযান ধ্বংস করেছি। তাদের বিমান বাহিনী ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।” প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল এবং তাদের আলোচিত ‘মিডনাইট হ্যামার’ (Midnight Hammer) বি-২ বোমারু বিমানের হামলার ফলেই ইরানকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি মধ্যস্থতার কথা বললেও ট্রাম্প সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া তিনি অন্য কোনো পথ গ্রহণ করবেন না। এই যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট বারবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার টালমাটাল হয়ে পড়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে কেবল ইসরায়েলকেই নয়, বরং যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোতেও হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সংঘাতটি এখন আর কেবল ইরান-কেন্দ্রিক নেই, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন এই যুদ্ধকে ‘বিশ্বের জন্য সেবা’ হিসেবে দেখছেন, তখন বাস্তবে এটি বিশ্বশান্তি ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলছে।
