ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৪-২৫ বর্ষের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের সবচেয়ে দূষিত শহরের তকমা ধরে রাখল জাতীয় রাজধানী দিল্লি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবেশ গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডস’ জানিয়েছে, গত এক বছরে দিল্লিতেই বাতাসে বিষাক্ত পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর মাত্রা ছিল সর্বাধিক। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহারের রাজধানী পাটনা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্থানীয় কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া এবং আঞ্চলিক নানা কারণে দিল্লির আকাশ প্রায় সারা বছরই ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকে। বিশেষ করে শীতকালে দিল্লির বায়ুমান সূচক বা একিউআই (AQI) দীর্ঘ সময় ধরে ‘গুরুতর’ (Severe) বা ‘জরুরি’ (Emergency) পর্যায়ে অবস্থান করে। অন্যদিকে, গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাটনাতেও দূষণ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বায়ুপ্রবাহ থমকে যাওয়ার (Atmospheric Stagnation) ফলে সেখানেও দূষিত কণা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকছে।
ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ ভারতের শহরগুলো তুলনামূলক কম দূষিত হলেও, এবার বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের বায়ুমানের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। রিপোর্টে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- ২০২৫ সালে এই দুই শহরে বার্ষিক গড় দূষণের মাত্রা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দূষণ এখন আর কেবল ঋতুভিত্তিক সমস্যা নয়, সারা বছরের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির মতো কলকাতা এবং গাঙ্গেয় অববাহিকার অন্যান্য শহরেও শীতকালীন দূষণ এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।
আইআইটি দিল্লির বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান সাগ্নিক দে জানিয়েছেন, বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়া (১ মিটারের কম/সেকেন্ড) এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার ফলে উত্তরের শহরগুলোতে দূষণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারি নীতি বা ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম (NCAP) আবহাওয়ার এই পরিবর্তনগুলোকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছে না, যার ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপে ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডস’ তাদের রিপোর্টে এনসিএপি (NCAP) ফেজ-৩-এ বড়সড় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- শীতকালের জন্য আলাদা দূষণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা এবং একটি নির্দিষ্ট শহরের বদলে পুরো অঞ্চলের (Airshed) জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছে, কেবল ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বুঝে নতুন করে পরিকল্পনা না করলে এই বিষাক্ত বাতাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।
