ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশে উপনির্বাচনে ব্যাপক ভয় দেখানো এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (ওয়াইএসআরসিপি)-র সভাপতি ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের শাসকদল তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-নেতৃত্বাধীন জোট সরকার জোরজবরদস্তি ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। সোমবার এক্স পোস্টে জগন মোহন রেড্ডি বলেন, “এমনকি একটি ছোট এমপিপি (ভিঞ্জামুরু ও বোম্মানাহল্লি মণ্ডলে অনুষ্ঠিত মণ্ডল পরিষদ সভাপতি) নির্বাচনেও যেভাবে নির্মমভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, তা টিডিপির চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিপজ্জনক চরিত্রকে উন্মোচিত করছে। তিনি নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বদলে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করেছেন।” রেড্ডির অভিযোগ, উদয়গিরি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভিঞ্জামুরু মণ্ডলে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ওয়াইএসআরসিপি কর্মীদের রাস্তায় আটকে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়, এক মহিলা এমপিটিসি সদস্য রক্তাক্ত জখম হন, একজন সদস্যকে অপহরণ করা হয় এবং আরেকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়—সবই শুধুমাত্র এমপিপি নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে আটকানোর জন্য। ভয় সৃষ্টি করে, বলপ্রয়োগ করে এবং ভোটাধিকার রুদ্ধ করে জনগণের কণ্ঠস্বর দমন করার এটি একটি পরিকল্পিত চেষ্টা। এই ঘটনাগুলিতে পুলিশ টিডিপির হাতের পুতুলের মতো আচরণ করেছে, প্রকাশ্যে শাসকদলকে সমর্থন করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, রায়দুর্গম বিধানসভা কেন্দ্রের বোম্মানাহল্লি মণ্ডলেও একই ধরনের “কুৎসিত চিত্র” দেখা গেছে। রেড্ডির বক্তব্য, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপহরণ, প্রকাশ্যে হামলা, পুলিশের অপব্যবহার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পিষে দেওয়া টিডিপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যিনি সারা দেশকে গণতন্ত্রের পাঠ দেন, সেই চন্দ্রবাবু নাইডুকে অন্ধ্রপ্রদেশকে আইনহীন ‘জঙ্গলরাজ’-এ পরিণত করার জবাব দিতে হবে। একটি ছোট স্থানীয় সংস্থার পরোক্ষ নির্বাচনে যদি গণতন্ত্রের এই অবস্থা হয়, তবে তা স্পষ্টভাবে দেখায় সরকার কতটা অহংকারী ও গণতন্ত্রবিরোধী হয়ে উঠেছে।”
ওয়াইএসআরসিপির দাবি, উভয় মণ্ডলেই এমপিটিসি সদস্যদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে শাসক দলের পক্ষে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সময় পুলিশ ও নির্বাচন আধিকারিকরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ। দলটি উপনির্বাচন বাতিল করে অবাধ ও সুষ্ঠু পদ্ধতিতে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে তার। পাশাপাশি, সমস্ত অভিযোগভিত্তিক ঘটনার নথিভুক্তকরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ওয়াইএসআরসিপি রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের কাছেও হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এই বিষয়ে শাসক টিডিপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
