ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আই-প্যাকের অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)–র অভিযানের তীব্র সমালোচনা করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করছে এবং ইডি তদন্তের নামে তথ্য “চুরি করতে” এসেছিল।
টিএমসির ‘ডিজিটাল ওয়ারিয়র’দের এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, তদন্তের যুক্তি ও উদ্দেশ্য দুটোই সন্দেহজনক। তার প্রশ্ন, যদি সত্যিই তদন্ত হয়, তবে শুধুই পশ্চিমবঙ্গের অফিসে অভিযান কেন? “হায়দরাবাদ বা দিল্লিতে অভিযান হয়নি কেন?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার–সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি আই-প্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাসভবনে অভিযান চালায়। রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গা এবং দিল্লিতেও তল্লাশি হয়।
টিএমসি–র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক অভিযোগ করেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ‘‘যদি তদন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে হয়, তবে সব ডিরেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি হত। যদি এক ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তবে শুধু বাংলার অফিসে অভিযান কেন? এটা পরিকল্পিতভাবে এমন একটা ধারণা তৈরি করছে যে প্রতিষ্ঠানটাই দোষী,’’—মন্তব্য করেন তিনি। আই-প্যাক টিএমসিকে রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দলের আইটি ও মিডিয়া কার্যক্রমও পরিচালনা করে।
সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে অভিষেক কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর পক্ষপাতের অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংস্থাগুলো নীরব থাকে, কিন্তু বিরোধীদের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তার কথায়, ‘‘যেই মানুষটা বিজেপিতে যোগ দেয়, সেও তুলসী পাতা হয়ে যায়। যারা প্রতিরোধ করে, তাদের চোর বলে দেগে দেওয়া হয়।’’ ইডি সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করে অভিযোগ জানায় যে, আই-প্যাক ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ইডির হেফাজত থেকে নথি সরিয়ে নেন এবং এর তদন্ত সিবিআইকে দেওয়া প্রয়োজন। পরে হাই কোর্ট শুনানি পিছিয়ে দেওয়ায় ইডি সুপ্রিম কোর্টে যায়।
বক্তৃতায় অভিষেক বিজেপিকে বাংলার ভাষা ও ঐতিহ্যকে ‘অপমান’ করার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছিলেন যে বাংলা কোনও ভাষা নয় এবং তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলেছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে কলকাতায় বিজেপির মিছিলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনাও উল্লেখ করেন। বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগর না থাকলে নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ—কেউই নিজের নাম লিখতে পারতেন না… ‘বর্ণপরিচয়’।’’ তবে তিনি এই মন্তব্যের যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা আর দেননি।
দলের সাংগঠনিক কাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিষেক তৃণমূলকে সেনাবাহিনীর তিন শাখার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, বুথস্তরের কর্মীরা দলের ‘আর্মি’, সংসদ ও আদালতে লড়াই করা প্রতিনিধিরা ‘নেভি’ এবং সামাজিক মাধ্যমে বিজেপির ‘ভুয়া প্রচার’ মোকাবিলা করা ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবীরা ‘এয়ার ফোর্স’। তিনি ডিজিটাল কর্মীদের তথ্য, যুক্তি ও পরিসংখ্যান দিয়ে প্রতিযুদ্ধ চালানোর আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যাকে সত্যি হিসেবে তুলে ধরছে।
