TOP NEWS

“ঘৃণার রাজনীতির বলি শিক্ষা”: এনওসি থাকা সত্ত্বেও দলিত-আদিবাসী শিশুদের স্কুল গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্চায়েতের অনাপত্তি পত্র (NOC) থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলায় একটি নবনির্মিত স্কুল ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ভৈঁসদেহি তহসিলের ধাবা গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সমাজকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভোপালের সমাজকর্মী রাজিয়া মাসুদ এই ঘটনাকে “সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধতা ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের নগ্ন রূপ” বলে অভিহিত করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

ধাবা গ্রামে প্রায় ২,০০০ মানুষের বাস, যার মধ্যে মাত্র চারটি মুসলিম পরিবার রয়েছে। গ্রাম থেকে নিকটতম স্কুলের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। গ্রামের শিশুদের, বিশেষ করে দলিত ও আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার অভাব দূর করতে আব্দুল নাঈম নামে এক ব্যক্তি নিজের উপার্জনের ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি স্কুল তৈরি করেন। নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পঠনপাঠন হওয়ার কথা ছিল।

গুজব ও তদন্ত

অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি এলাকায় গুজব ছড়ানো হয় যে নাঈম সেখানে একটি “বেআইনি মাদ্রাসা” তৈরি করেছেন এবং “অননুমোদিত” শিক্ষা দিচ্ছেন। গ্রামবাসীদের দাবি, তহসিলদার, মহকুমা শাসক (SDM) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (SHO) তদন্ত করে স্কুলটিকে ক্লিনচিট দেন। প্রশাসন থেকে নাঈমকে পঞ্চায়েতের এনওসি (NOC) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

এনওসি এবং প্রশাসনের ‘চাপ’

নাঈমের দাবি, তাঁর জমির সমস্ত নথি সঠিক থাকা সত্ত্বেও প্রথমে পঞ্চায়েত এনওসি দিতে গড়িমসি করে। এদিকে স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পঞ্চায়েত তড়িঘড়ি এনওসি দিলেও প্রশাসনের অনড় মনোভাব বদলায়নি। নাঈমের অভিযোগ, মহকুমা শাসক তাঁকে স্পষ্ট জানান যে, “ওপরমহল থেকে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে, স্কুলটি ভাঙতেই হবে।” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাও এক্ষেত্রে কোনো গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ।

গণশুনানি ও বুলডোজার অভিযান

স্কুল বাঁচাতে কয়েকশ গ্রামবাসী জেলা শাসকের (Collector) জনশুনানি কর্মসূচিতে যোগ দিতে ৮০ কিমি দূরে বেতুলে পৌঁছান। পুলিশ তাঁদের পথে বাধা দেয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তাঁরা জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। জেলা শাসক তদন্তের আশ্বাস দিলেও অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ই তড়িঘড়ি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও বার্তা জারি করে এই বুলডোজার অভিযানকে ‘বৈধ’ বলে দাবি করা হয়। তবে পঞ্চায়েতের এনওসি থাকা সত্ত্বেও কেন ভবনটি ভাঙা হলো, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।

প্রতিক্রিয়া

সমাজকর্মী রাজিয়া মাসুদ বলেন, “একটি স্কুলের ভবন ধ্বংস করা মানে দেশের অগ্রগতিকে কয়েক কদম পিছিয়ে দেওয়া। প্রান্তিক মানুষের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। যখন স্কুল ধ্বংস করা বা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করাকে উৎসব হিসেবে পালন করা হয়, বুঝতে হবে আমরা এক অন্ধকার যুগে বাস করছি।” তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!