নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী জলঙ্গি বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলিকাহারা গ্রামের যেসব ভোটারের বিরুদ্ধে ‘ফর্ম-৭’ জমা দিয়ে নাম কাটার আবেদন করা হয়েছিল, সেই ১৯৩ নম্বর বুথের বাসিন্দারা এবার ডোমকলের মহকুমা শাসক তথা নির্বাচন রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলঙ্গি বিধানসভার ১৯৩ নম্বর বুথের অন্তত ৭০ জনের বেশি ভোটারের নাম মুছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক ‘ফর্ম-৭’ জমা দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত কোনো ভোটারের মৃত্যু, স্থায়ীভাবে এলাকা ত্যাগ বা নামের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কলিকাহারার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কেউই মৃত নন বা এলাকা ছাড়েননি—বরং বহু বছর ধরে একই স্থানে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। অভিযোগ, আবেদনপত্রে বহু জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখানো হয় এবং কয়েকজনের নামের পাশে ‘নট ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ মন্তব্য লেখা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের জন্মভূমিতে ‘বেনাগরিক’ তকমা পাওয়ার আতঙ্ক গ্রাস করেছিল বহু পরিবারকে।
এই অভিযোগকে সামনে রেখে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট ভোটাররা সম্মিলিতভাবে মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। সেখানে তারা স্পষ্টভাবে জানান, তারা সবাই ২০২৬ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বৈধ ভোটার এবং প্রত্যেকের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র রয়েছে। তবুও এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ফর্ম-৭ জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারী বিজয় ঘোষ নামের এক ব্যক্তি, তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে নাম কাটার আবেদন করেছেন। এতে তারা চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ এনামুল হক ‘ডেইলি ডোমকল’-কে বলেন, তারা ৭৬-জলঙ্গি বিধানসভার কলিকাহারা প্রাথমিক স্কুলের ১৯৩ নম্বর বুথের ভোটার। ২০২৬ সালের খসড়া তালিকায় তাদের নাম রয়েছে এবং প্রত্যেকের নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্রও আছে। অথচ এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ফর্ম জমা দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে তাদের সামাজিক ও নাগরিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ। আবেদনে তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন—ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাদের নাম যাতে ভোটার তালিকায় অক্ষুণ্ণ থাকে তা নিশ্চিত করা হোক।
কলিকাহারা গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা শুধু ভোটাধিকার হারানোর বিষয় নয়—এটি নাগরিক পরিচয়ের ওপরও আঘাত। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসের কারণে নাগরিকত্ব নিয়ে সংবেদনশীলতা বেশি থাকায় এই ঘটনা তাদের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এক বাসিন্দার কথায়, “ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা হতে পারে। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাইছি।”
এদিকে মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর এখন প্রশাসনিক তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ১৯৩ নম্বর বুথের বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, তদন্তে সত্য সামনে আসবে এবং তাদের বৈধ ভোটার পরিচয় অক্ষুণ্ণ থাকবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও দাবি তাদের।
