ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম মহীরুহ, কুশলী পরিকল্পনাকারী এবং লক্ষাধিক সমর্থকের প্রিয় ‘দাদা’ অজিত পাওয়ার আর নেই। বুধবার সকালে বারামতীর কাছে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। এই অকাল প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতার অলিন্দে এক প্রভাবশালী নাম ছিলেন অজিত পাওয়ার। এনসিপি (NCP) প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের ভাইপো এবং সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের দাদা হওয়া সত্ত্বেও, তিনি নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।
তৃণমূল স্তর থেকে ক্ষমতার শিখরে
তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ১৯৮২ সালে একটি সমবায় চিনি কলের বোর্ড সদস্য হিসেবে। ১৯৯১ সালে তিনি পুনে জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হন এবং একই বছর বারামতী লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। যদিও পরবর্তীতে কাকা শরদ পাওয়ারের জন্য তিনি আসনটি ছেড়ে দেন, যা তাঁর পারিবারিক ও দলীয় আনুগত্যের এক অনন্য নিদর্শন ছিল। বারামতী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি সাতবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে চারজন পৃথক মুখ্যমন্ত্রী— পৃথ্বীরাজ চহ্বান, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডের অধীনে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক চাণক্য ও ক্ষমতার পালাবদল
অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি-র সাথে হাত মিলিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি গোটা দেশকে চমকে দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই আসল এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
জনগণের প্রিয় ‘দাদা’
উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানোর পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকা বারামতীর সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন নেতা নন, বরং একজন পথপ্রদর্শক এবং বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার এবং দুই পুত্র জয় ও পার্থ পাওয়ারকে রেখে গেছেন। অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে মহারাষ্ট্র কেবল একজন নেতাকেই হারাল না, হারাল একটি জীবন্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে। তাঁর অভাব রাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল অনুভূত হবে।
