ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে এক প্রভাবশালী আমলার ফার্মহাউস থেকে চলা একটি বড়সড় জুয়ার রেকেট ফাঁস করল পুলিশ। বুধবার রাতের এই অভিযানে নগদ লক্ষ লক্ষ টাকা ও দামী সরঞ্জামসহ ১৮ জন জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের নজর এড়িয়ে চম্পট দিয়েছে মূল অভিযুক্তসহ আরও পাঁচজন।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, যে ফার্মহাউসটিতে এই অবৈধ আসর বসেছিল, সেটি মধ্যপ্রদেশ ফিন্যান্স ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা শাহডোল জেলার প্রাক্তন কালেক্টর বন্দনা বৈদ্য এবং তাঁর স্বামী অম্বরীশ বৈদ্যের নামে নিবন্ধিত।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ ওই ফার্মহাউসে হানা দেয়। পুলিশ পৌঁছে দেখে প্রধান ফটকটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ। কিন্তু ভিতর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ পাওয়ায় সন্দেহ বাড়ে। এরপর পুলিশের একটি দল পিছনের দরজা দিয়ে নিঃশব্দে চত্বরে প্রবেশ করে এবং বারান্দায় তাস নিয়ে মত্ত থাকা জুয়াড়িদের ঘিরে ফেলে। সেখান থেকেই ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাঁচজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সুপার ইয়াংচেন ডলকার ভুটিয়া জানিয়েছেন, এই অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৩.৬৭ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, ৩০টি মোবাইল ফোন, ২টি দামী গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ তাসের বান্ডিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ২৮.৬৭ লক্ষ টাকা। ধৃতদের ইতিমধ্যেই জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তালিকায় পলাতক অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে জগদীশ রাঠোড় ওরফে ‘আঙ্কেল’ ওরফে ‘কুবড়া’, গোপাল, পাপ্পু, আশিস জৈন এবং ফার্মহাউসের কেয়ারটেকার রঞ্জিত চৌধুরী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জগদীশ রাঠোড়ই এই জুয়া চক্রের মূল পাণ্ডা। অন্যদিকে, কেয়ারটেকার রঞ্জিত চৌধুরী অর্থের বিনিময়ে মালিকের অজান্তে বা যোগসাজশে ওই চত্বরটি জুয়ার আসরের জন্য ব্যবহার করতে দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা এখন ধৃতদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখছেন, এটি কোনো বড় আন্তঃরাজ্য বেটিং বা সংগঠিত অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের অংশ কি না।
ঘটনা জানাজানি হতেই প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। তবে এই ঘটনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন আইএএস অফিসার বন্দনা বৈদ্য। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তিনি প্রথম এই অভিযানের কথা জানতে পারেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, “ফার্মহাউসটি আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং একজন কেয়ারটেকার সেটি দেখাশোনা করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আমার কোনো জানাশোনা বা যোগাযোগ নেই। আমার বিনা অনুমতিতে সেখানে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে এবং সেখানে চুরির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বর্তমানে পলাতক পাঁচজনকে ধরতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের সম্পত্তিতে কীভাবে দিনের পর দিন এই কারবার চলল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কেয়ারটেকার ছাড়া অন্য কারোর প্রশ্রয় এই রেকেটের পিছনে ছিল কি না।
