ডেইলি ডোমকল, গুয়াহাটি: হিন্দু পরিবারগুলিকে একের বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, রাজ্যের ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে জন্মহার তুলনামূলক বেশি হলেও হিন্দুদের মধ্যে তা ক্রমশ কমছে। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় সন্তান জন্মের হার বেশি। কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে সন্তান জন্মের হার কমে আসছে। এখানে একটা স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।” হিন্দু পরিবারগুলিকে বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হিমন্ত বলেন, “এই কারণেই আমরা হিন্দুদের বলছি, যেন তারা এক সন্তানেই থেমে না যায়। অন্তত দু’টি সন্তান নিক। যাঁরা পারেন, তাঁরা তিনটি সন্তানও নিন।” একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা মুসলিমদের বলি সাত-আটটি সন্তান না নিতে, আর হিন্দুদের বলি আরও সন্তান নিতে। তা না হলে হিন্দুদের ঘর দেখাশোনা করার মতো কেউ থাকবে না।”
এর আগেও, গত ২৭ ডিসেম্বর অসমের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সে সময় তিনি দাবি করেন, ২০২৭ সালের জনগণনায় বাংলাদেশি-উৎপত্তির মিয়া মুসলিমদের সংখ্যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। তাঁর বক্তব্য, তিনি যখন অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএসইউ)-এর সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত হন, তখন এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালের জনগণনায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ শতাংশে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ওদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যাবে। সেই দিন দূরে নয়, যখন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখবে যে অসমীয়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।”
বিতর্ক উস্কে হিমন্ত বলেন, “বাংলাদেশ থেকে প্রায়ই বলা হয় যে উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাদের যুদ্ধ করার দরকার নেই। একবার যদি তাদের জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারত আপনা-আপনিই তাদের হাতে চলে যাবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা একে বিভাজনমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য বলে সমালোচনা করেছেন।
