ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: ডেলিভারি বয়দের (গিগ শ্রমিক) নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ব্লিঙ্কিটের মতো ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যিয়া এই প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে ব্লিঙ্কিট ইতিমধ্যেই তাদের ট্যাগলাইন বদলেছে। আগে যেখানে লেখা ছিল “১০ মিনিটে ১০,০০০-র বেশি পণ্য ডেলিভারি”, সেখানে এখন লেখা হয়েছে “আপনার দোরগোড়ায় ৩০,০০০-র বেশি পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়”।
‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র জনআলোচনা চলছিল। অনেকের মতে, এই সময়সীমা ডেলিভারি পার্টনারদের নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ডেলিভারি সময়সীমা নিয়ে ওঠা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জোমাটো, সুইগি, ব্লিঙ্কিট ও জেপ্টো-সহ একাধিক অ্যাগ্রিগেটরের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর গিগ কর্মীদের ইউনিয়নগুলি উন্নত পারিশ্রমিক ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। দাবি মানা না হলে ৩১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল, ইচ্ছামতো সময়ভিত্তিক ডেলিভারি লক্ষ্য নির্ধারণ বন্ধ করা। এই প্রতিবাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সুইগি ও জোমাটো ডেলিভারি সংক্রান্ত প্রণোদনা বাড়ায়। তবে ইউনিয়নগুলি জানায়, দাবি পূরণ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
২০২০ সালের সামাজিক সুরক্ষা বিধি (Code on Social Security, 2020) অনুযায়ী, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী-সহ সব শ্রমিকই সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার অধিকারী। চলতি মাসের শুরুতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক চারটি শ্রম কোডের খসড়া বিধি প্রকাশ করেছে, যেখানে গিগ কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি, স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা কভারেজের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। সরকার আগামী ১ এপ্রিল থেকে চারটি শ্রম কোডের পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ কার্যকর করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
এদিকে গিগ কর্মীদের উদ্বেগ সংসদের ভিতরে ও বাইরে তুলে ধরা আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। চাড্ডা বলেন, “সত্যমেব জয়তে। আমরা একসঙ্গে জয়ী হয়েছি। কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ ব্র্যান্ডিং সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রের সময়োপযোগী, দৃঢ় ও মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। রাইডারের টি-শার্ট, জ্যাকেট বা ব্যাগে ‘১০ মিনিট’ লেখা থাকলে এবং গ্রাহকের স্ক্রিনে টাইমার চললে যে চাপ তৈরি হয়, তা বাস্তব, লাগাতার এবং বিপজ্জনক। এই সিদ্ধান্ত ডেলিভারি রাইডারদের এবং আমাদের সড়কে চলাচলকারী সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক মাসে আমি শত শত ডেলিভারি পার্টনারের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকেই অতিরিক্ত কাজ করছেন, কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন এবং অবাস্তব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। যে সব নাগরিক আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ—আপনারা মানবজীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন। আর সব গিগ কর্মীদের বলছি—আপনারা একা নন, আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি।”
