ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের কথিত ‘পাকিস্তান যোগ’ সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে—মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই ঘোষণার একদিন পরেই পাল্টা আক্রমণ শানালেন গৌরব। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘ভয় থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-এর এই রিপোর্টটি গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা জনসমক্ষে আনা হয়নি।
যোরহাটের লোকসভা সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ প্রশ্ন তোলেন, “আমরা ‘হিমন্ত বিশ্বশর্মা কে?’ শীর্ষক প্রচার শুরু করার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। তার পাল্টা হিসেবেই তিনি এখন ৮ ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট প্রকাশের কথা বলছেন। এটা কি সেই পুরনো রিপোর্ট যা ১০ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল, নাকি অন্য কিছু?”
মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে গৌরব বলেন, “উনি আমাকে চেনেন না। আমি ওঁর মতো কাপুরুষ নই। যখন ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, উনি দলবদল করেছিলেন। কিন্তু আমি আমার আদর্শে অটল, যা আমি আমার বাবা তরুণ গগৈয়ের কাছ থেকে শিখেছি। সম্ভবত উনি ১০ সেপ্টেম্বরের রিপোর্টের কথা ভুলে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের প্রচারের চাপে উনি এখন আতঙ্কিত।”
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বারবার গৌরবের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তুলেছেন, যা নিয়ে আসামের রাজনীতিতে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছে। এই প্রসঙ্গে গৌরব গগৈয়ের দাবি, এবার আসামের মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করবে। তাঁর কথায়, “এবারে আসামের মানুষ চোর-পুলিশ খেলবে, চোরদের চিহ্নিত করবে এবং কংগ্রেসের ওপর আস্থা রেখে ওদের বিদায় জানাবে।”
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থের খাতিরেই এই তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, গৌরব গগৈ এই সমস্ত অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে বিরোধী নেতাদের নিশানা করতে এবং শাসনের ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতে বিজেপি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অপব্যবহার করছে।
