ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র ইবাদতের মাস। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা কমিটি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে ঘোষণানুযায়ী, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে রোজা পালন শুরু হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, সূর্যাস্তের পরপরই পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ পর্যবেক্ষণের পর চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে মসজিদগুলোতে প্রথম তারাবির নামাজ আদায় শুরু হয় এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা গভীর রাত থেকে সেহরির প্রস্তুতি নেন।
রমজান মাস উপলক্ষে ইতিমধ্যে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ওমরাহ পালনকারীদের উপস্থিতিতে পবিত্র নগরীগুলোতে ধর্মীয় আবহ আরও গভীর হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা, ইফতার বিতরণ, পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে।
সৌদি আরবের ঘোষণার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্টিয়াল কোর্ট জানায়, বুধবার থেকেই আমিরাতজুড়ে রোজা শুরু হয়েছে। আবুধাবি, দুবাইসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে রাতেই তারাবির নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। ইফতার ও সেহরির সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে স্থানীয় ইসলামিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। তবে প্রতিবেশী ভিন্ন ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে সেখানে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায়ই বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার পদ্ধতির তারতম্যের কারণে রমজান শুরুর তারিখে একদিন পার্থক্য দেখা যায়।
ভারতে কবে রোজা?
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায়ও রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌদি আরবে রোজা শুরু হওয়ার একদিন পর ভারত-এ রমজান শুরু হয়। সে অনুযায়ী, ভারতে বুধবার প্রথম তারাবির নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রথম রোজা শুরু হবে। ফলে বৃহস্পতিবার একটি পূর্ণ রোজা সম্পন্ন হবে।
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাস হিসেবে বিবেচিত। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, তারাবি, দান-সদকা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চর্চা জোরদার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে আবারও পবিত্র রমজানের বার্তা পৌঁছে গেল।
এদিকে রমজানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ধর্মীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মসজিদগুলোতে কোরআন তেলাওয়াত, তারাবি ও ইতিকাফের আয়োজন করা হয়েছে। বাজারগুলোতে খেজুর, ফলমূল, মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী ইফতার সামগ্রীর কেনাবেচা বেড়েছে কয়েকগুণ। সামাজিক ও দাতব্য সংস্থাগুলো দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ইফতার ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজান মাস মুসলিম সমাজে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক সংহতির বার্তা নিয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ সময় দান-সদকা ও মানবিক সহায়তার কার্যক্রম বাড়ে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
