TOP NEWS

‘আমি একনায়ক, মাঝেমধ্যে একনায়কতন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে’: দাভোসে স্বীকার ট্রাম্পের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (WEF) ভাষণ দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একজন “একনায়ক” বা ডিক্টেটরের সাথে তুলনা করেছেন। বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, পরিস্থিতি ভেদে মাঝে মাঝে একনায়কতন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে। নিজের ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটা ভালো ভাষণ দিয়েছি এবং খুব ভালো রিভিউ পেয়েছি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না! সাধারণত ওরা বলে, ‘ও একজন ভয়াবহ একনায়ক সুলভ ব্যক্তি,’ হ্যাঁ আমি একজন একনায়ক। কিন্তু মাঝেমধ্যে আপনার একজন একনায়কের প্রয়োজন হয়! তবে এই ভাষণের ক্ষেত্রে তারা এমনটা বলেনি… এটা সম্পূর্ণ কাণ্ডজ্ঞান বা কমন সেন্সের ওপর ভিত্তি করে বলা, এটা রক্ষণশীল বা উদারপন্থী কোনো বিষয় নয়।”

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পের এই ভাষণটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উপহাস ও সমালোচনা হয়েছে। ভাষণে তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবিতে অনড় থাকেন এবং কানাডা ও ইউরোপকে হুমকি দেন।

ট্রাম্পের নিজেকে একনায়কের সাথে তুলনা করার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং জাতীয় পতাকা পোড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মার্কিনিরা হয়তো একজন একনায়ককেই পছন্দ করবে। সে সময় ন্যাশনাল গার্ডের সহায়তায় অপরাধ দমন ও অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের কৃতিত্ব না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, “ওরা বলে, ‘আমাদের ওকে প্রয়োজন নেই। মুক্তি চাই, স্বাধীনতা চাই। ও একজন একনায়ক।’ কিন্তু অনেক মানুষই এখন বলছে, ‘হয়তো আমরা একজন একনায়ককেই পছন্দ করি’।” তবে এর পরেই তিনি সুর বদলে বলেন, “আমি একনায়ক হতে পছন্দ করি না। আমি একজন প্রখর কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন এবং বুদ্ধিমান মানুষ।” ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজকেও তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি একনায়ক হবেন ঠিকই, তবে তা কেবল ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনের জন্য।

সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনার পর অবশেষে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন। তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আর্কটিক দ্বীপটি নিয়ে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এই পিছু হটায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও, আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের দেশগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!