নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাককে ব্রাত্য রেখে এই কেন্দ্রে নতুন মুখ হিসেবে ভাবতা বেলডাঙ্গা আনন্দ শিক্ষানিকেতনের শিক্ষক বাবর আলিকে প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই জলঙ্গির রাজনৈতিক সমীকরণ ও দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, দল স্থানীয় আবেগকে গুরুত্ব দেয়নি। ক্ষুব্ধ রাজ্জাক বলেন, “আমাকে অপছন্দ হয়েছে, তাতে দুঃখ নেই। তবে জলঙ্গিতে যাঁরা দলকে নেতৃত্ব দেন, তাঁদের মধ্যে থেকে কাউকে করলে ভালো হত। জলঙ্গির মাটি অন্য জিনিস, সেটা বুঝল না দলের নেতৃত্ব।”
তিনি অতীতে অলোক দাস বা ইদ্রিস আলির মতো প্রার্থীদের পরাজয়ের পরিসংখ্যান টেনে বর্তমান নেতৃত্বকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, জলঙ্গিতে এর আগে যখনই ‘বহিরাগত’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।
একসময়ের বামফ্রন্টের শক্ত খুঁটি আব্দুর রাজ্জাক দু’বার বাম টিকিটে লড়েছেন। পরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং বিধায়ক নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি এবারও টিকিট পাবেন। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর ওপর আর ভরসা রাখল না। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বাজি এখন শিক্ষক বাবর আলি। মঙ্গলবারই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং ওই দিনই বিধানসভার টিকিট নিশ্চিত করেছেন। নবাগত বাবর আলিকে প্রার্থী করে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে দল, তেমনই পুরনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে ‘বহিরাগত’ তকমা নিয়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আব্দুর রাজ্জাককে সরিয়ে নতুন মুখ আনায় দলের একপক্ষ যেমন খুশি, অন্যপক্ষ আবার ‘অন্তর্ঘাতে’র আশঙ্কা করছে। বিধানসভা ভোটে এই ক্ষোভ প্রশমন করে বাবর আলি কতটা জমি শক্ত করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
