TOP NEWS

“আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না”: ইরান ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি সমর্থন করছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং এই মুহূর্তে যুদ্ধ থামানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আমি কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না। যখন আপনি আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপক্ষকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতি করা হয় না।” ইসরায়েলও কি একই সময়ে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত এবং উভয় পক্ষই এখন কেবল ‘বিজয়’ চায়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই এবং শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানিসহ বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, তেহরানের সাথে আলোচনার ইচ্ছা থাকলেও এই মুহূর্তে সেখানে “কথা বলার মতো কেউ নেই।” অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এই সংঘাতের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়া নিয়ে ট্রাম্প কিছুটা উদাসীনতা প্রদর্শন করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলার প্রতিবাদে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এই পথটি বন্ধ করে দেয়। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এই প্রণালীর প্রয়োজন নেই। এটি ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং চীনের প্রয়োজন। তাই তাদেরই এখন এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।” উল্লেখ্য, ট্রাম্প এই জলপথটি পুনরায় সচল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য চাইলেও অনেক দেশই তাতে সাড়া দেয়নি। তাদের মতে, কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেছে, তাই এর দায়ভার ট্রাম্প প্রশাসনকেই নিতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৫০ জন শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। জবাবে ইরানও থেমে নেই। তারা ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!