ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: বিজেপির বিরুদ্ধে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ বহু পুরনো। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের রাজনীতির অভিযোগ বারংবার সরব হয়েছে বিরোধীরা। এবার এক বিদেশী যুবককে হিন্দি ভাষায় কথা না বলায় হুঁশিয়ারি দিলেন এক বিজেপি নেত্রী। জানা গিয়েছে, সোমবার এক আফ্রিকান আফ্রিকান নাগরিককে হিন্দি শেখার জন্য হুমকি দিচ্ছেন দিল্লির পাটপারগঞ্জের কাউন্সিলার রেণু চৌধুরী। ইতিমধ্যে ঘটনার ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিজেপি কাউন্সিলর রেণু চৌধুরী একটি পার্কে কয়েকজনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।
জোর গলায় হিন্দিতে কথা বলতে বলতে তিনি এক আফ্রিকান নাগরিককে প্রশ্ন করেন, ভারতে থাকার পরও কেন তিনি হিন্দি শেখেননি। এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এক মাসের মধ্যে হিন্দি না শিখলে সংশ্লিষ্ট পার্কটি তাঁর জন্য ফল ভাল হবে না। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আফ্রিকান নাগরিকের দিকে তেড়ে যান পদ্ম নেত্রী। তিনি আঙুল উঁচিয়ে বলছেন, “আপনাকে আগেই হিন্দি শিখতে বলেছিলাম। শেখেননি কেন? হিন্দি না শিখলে ঢুকতে দেব না।” বিজেপি কাউন্সিলারের এমন কথায় হেসে ফেলেন আশপাশের লোকজন। এতে বিরক্ত রেণু তাঁদেরও ধমক দেন, “এটা হাসির বিষয় নয়। আমি সিরিয়াস। এই দেশে রোজগার করতে হলে, ভাষাও শিখতে হবে।”
National News Channels will not cover this because this isn’t from Maharashtra, Karnataka or Tamil Nadu. This is BJP councillor Renu Chaudhary from Delhi confronting an African football coach in a public park, threatening him to learn Hindi within one month. The coach has been… pic.twitter.com/iqMkt9b8gH
— Mohammed Zubair (@zoo_bear) December 22, 2025
সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই আফ্রিকান নাগরিক একটি বেসরকারি স্কুলের ফুটবল কোচ। প্রায় ১৫ব ছর ধরে পাটপারগঞ্জে রয়েছেন তিনি। তবে হিন্দি জানেন না। ইংরেজিতেই কথা বলেন। প্রতিদিন সকালে স্থানীয় একটি মাঠে স্কুলের ছেলে-মেয়েদের ফুটবল শেখান। এ দিন আচমকাই মাঠে ঢুকে পডে়ন ১৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলার রেণু। অভিযোগ, হিন্দি না বলায় তাকে হেনস্থা করেন তিনি। ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের বক্তব্য, কাউন্সিলরের আচরণকে ‘বুলিং’ এবং একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য এই ধরনের মন্তব্য অনুপযুক্ত। এই ঘটনা ভারতের সংবিধানকে ক্ষুণ্ণ করে। এক ব্যবহারকারী লেখেন, “জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা দেখানোর জন্যই এই ধরনের আচরণ করা হয়েছে।”
এদিকে সমালোচনার মুখে পড়ে রেণু চৌধুরী দাবি করেছেন, দিল্লি পুরনিগমের অধিকাংশ কর্মী ইংরেজি বোঝেন না। দীর্ঘদিন এলাকায় থাকার পরও বিদেশি কোচরা ন্যূনতম হিন্দি না বোঝায় যোগাযোগে সমস্যা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।
