ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং জরুরি খনিজ সম্পদের একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে আমেরিকা নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী কৌশলগত জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’-তে যোগ দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর-এর উপস্থিতিতে ভারত এই জোটে শামিল হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েন কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার ভারত এই জোটের দশম সদস্য হিসেবে নাম লেখাল। ভারতের পাশাপাশি এই জোটে রয়েছে— অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইজরায়েল, জাপান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ব্রিটেন। গত মাসেই মার্কিন প্রতিনিধি সার্জিও গর ভারতকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মার্কিন অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট জেকব হেলবার্গ এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, “প্যাক্স সিলিকা একটি ঘোষণা যে ভবিষ্যৎ তাদেরই যারা নির্মাণ করে এবং যখন মুক্ত দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে হাত মেলায়।”
যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের শক্তি। এই প্রযুক্তির বিকাশের জন্য প্রয়োজন জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং শক্তিশালী হার্ডওয়্যার পরিকাঠামো। প্যাক্স সিলিকার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো একে অপরের ওপর নির্ভর করে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এই চুক্তির ফলে ভারত কেবল উন্নত প্রযুক্তির কাঁচামাল বা খনিজ সম্পদ পাওয়ার ক্ষেত্রেই সুবিধা পাবে না, বরং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই গবেষণায় বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবে।
প্যাক্স সিলিকা (Pax Silica) আসলে কী?
‘প্যাক্স সিলিকা’ হলো একটি আন্তর্জাতিক জোট, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আত্মপ্রকাশ করে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে প্রথম প্যাক্স সিলিকা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে। এর মূল লক্ষ্য হলো- সেমিকন্ডাক্টর এবং উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত খনিজ সম্পদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। নিরাপদ এবং উদ্ভাবনী এআই পরিকাঠামো তৈরি করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করা।
