ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধের দ্বাদশ দিনেও মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই যুদ্ধ অবসানের জন্য তিনটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইরান। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই শর্তগুলোর কথা ঘোষণা করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমান সংঘাত বন্ধের একমাত্র পথ হলো:
১. বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি: পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণসহ ইরানের সমস্ত ‘বৈধ অধিকার’ মেনে নেওয়া।
২. ক্ষতিপূরণ প্রদান: যুদ্ধের ফলে ইরানের যে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৩. আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে কোনো রকম আগ্রাসন চালানো হবে না, তার সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রদান।
উল্লেখ্য, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণকে এনপিটি (NPT) চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান বরাবরই তাদের ‘বৈধ অধিকার’ বলে দাবি করে আসছে। তবে যুদ্ধ অবসানের শর্ত হিসেবে ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি করার ঘটনা এই প্রথম।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়েও তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ-বঘের গালিবফ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি যুদ্ধের শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। স্পিকার গালিবফ জানিয়েছেন, “আগ্রাসীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে ইরানের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।” তাঁর মতে, ইসরায়েলি শাসকরা ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধ, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির যে দুষ্টচক্র তৈরি করেছে, ইরান এবার তা ভেঙে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের দ্বাদশ দিনেও ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) দাবি করেছে, তারা আইআরজিসি (IRGC)-এর এয়ার ফোর্স হেডকোয়ার্টার, ইমাম হোসেন ইউনিভার্সিটি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও মজুত কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে। এরই পাল্টা জবাবে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে যৌথভাবে শত্রুঘাঁটিতে ‘নির্ণায়ক আঘাত’ হেনেছে। ইরান দাবি করেছে, পাঁচ ঘণ্টা ধরে তারা অবিরাম পালটা হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তিনি চাইলে যেকোনো মুহূর্তে এই যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারেন। তবে তাঁর এই দাবির মধ্যেই ইরান জুড়ে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সুপ্রিম লিডার এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বনেতারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির আর্জি জানালেও, আপাতত কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়।
