ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করতে এক বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে আঞ্চলিক দেশগুলো। সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র হাতে আসা এই গোপন খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সামরিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব অত্যন্ত একপেশে হওয়ায় তেহরান এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
৫ দফার শান্তি প্রস্তাবে কী রয়েছে?
আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে পেশ করা এই শান্তি প্রস্তাবের প্রধান পাঁচটি শর্ত হলো:
১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে লাগাম: ইরান আগামী তিন বছরের জন্য তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ (Zero Enrichment) রাখতে সম্মত হবে। পরবর্তী সময়ে তারা কেবল ১.৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।
২. মজুত হস্তান্তর: ইরানের কাছে বর্তমানে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ ভাণ্ডার অন্য কোনো তৃতীয় দেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
৩. অ-রাষ্ট্রীয় মিত্রদের সহায়তা বন্ধ: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র বা সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা যাবে না।
৪. ব্যালিস্টিক মিসাইল সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি: ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কোনো সামরিক পরিস্থিতিতেই আগে থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে না।
৫. অ-আগ্রাসন চুক্তি: ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সামরিক আগ্রাসন না চালানোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ‘অ-আগ্রাসন’ (Non-aggression) চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
কেন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে ইরান?
যদিও এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ এড়ানো, কিন্তু খসড়াটির শর্তগুলো মূলত ইরানের পরমাণু অধিকার এবং আঞ্চলিক শক্তির ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং মজুত হস্তান্তর করা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চুক্তিতে আমেরিকার ওপর কোনো কঠোর বিধিনিষেধের পরিবর্তে কেবল অ-আগ্রাসন চুক্তির কথা বলা হয়েছে, যা ইরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে।
আল জাজিরার সূত্র মতে, এই প্রস্তাবটি বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বরফ গলাতে কতটা সক্ষম হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিলেও, তেহরান একে তাদের অধিকার খর্ব করার একটি কৌশল হিসেবেই বিবেচনা করছে।
