ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওমান ও জেনেভায় চলমান পরমাণু সমঝোতা আলোচনার মাঝপথেই ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান শুরু করেছে বিশাল সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ (Operation True Promise 4)।
ইরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি এই ভয়াবহ আগ্রাসনে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি, বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন। এই শোক ও ক্ষোভকে শক্তিতে রূপান্তর করে ইরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় পশ্চিমাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়ে যুদ্ধের সক্ষমতা নষ্ট করা সম্ভব নয়। গত দুই দশকে আমাদের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের (ইরাক ও আফগানিস্তান) যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর পরাজয় আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেই শিক্ষাগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এখন ‘ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স’ (Decentralized Mosaic Defense) বা বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কৌশলে সজ্জিত। এই কৌশলের ফলে তেহরান নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে যে এই যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষে উভয় পক্ষই ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির’ কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সেই কূটনৈতিক সাফল্য এখন যুদ্ধের মেঘে ঢাকা পড়েছে। আলোচনার মাঝেই শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হামলাকে ইরানের পক্ষ থেকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
