ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানজুড়ে বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই সমাবেশ থেকে ইরানি জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তাদের অধিকার এবং মর্যাদা “বিক্রয়যোগ্য নয়”।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে আরাগচি বলেন, বুধবারের সমাবেশে “লক্ষ লক্ষ ইরানি আবারো বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে ইরানের অধিকার এবং মর্যাদা বিক্রয়যোগ্য নয়।” পণ্ডিতরা ২০শ শতাব্দীর “সর্বশেষ মহান বিপ্লব” হিসেবে অভিহিত করা এই বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী পালনে ইরানের রাস্তাগুলোতে জনস্রোত নেমেছিল।
বিদেশমন্ত্রী আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী বিপ্লবের পরবর্তী দশকগুলোতে গভীর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, বিশেষ করে গত ১২ মাসে। তিনি উল্লেখ করেন, “শুধুমাত্র গত এক বছরে আমাদের জনগণ দুটি পারমাণবিক-সশস্ত্র শাসনের নজিরবিহীন আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং এরপর একটি বিশাল সন্ত্রাসী অভিযানের শিকার হয়েছে; তবুও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।”
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ষষ্ঠ রাউন্ডের দু’দিন আগে ইসরায়েল একটি আক্রমণ চালায়। পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই আগ্রাসনে যোগ দেয় এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। ২৪ জুন, ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সফল পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য করে। তবে এই আগ্রাসনে অন্তত ১,০৬৪ জন মানুষ নিহত হয়েছে। আরাগচি স্পষ্ট করেছেন, ইরানের স্থিতিস্থাপকতা কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নয়, বরং তার জনগণের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন ফার্সি নববর্ষ শান্তি নিয়ে আসবে, যেখানে যুদ্ধের চেয়ে সংলাপ জয়ী হবে।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে চুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে আরাগচি বলেন, চুক্তি সম্ভব “তবে তা অবশ্যই ন্যায্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই লক্ষ্যে, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো মূল্য দিতেই পিছপা হবে না।”
উল্লেখ্য, ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন রাউন্ডের পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই আলোচনার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যা সামরিক সংঘাতের ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি তবে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি নেতানিয়াহুকে একজন “যুদ্ধবাজ” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি শান্তি বা কূটনীতি পছন্দ করেন না। বিদেশমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত দুই বছরে নেতানিয়াহু এই অঞ্চলের সাতটি দেশে আক্রমণ করেছেন, যার সর্বশেষ লক্ষ্য ছিল কাতারের মতো মার্কিন মিত্রদেশ।
