ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় লক্ষ্য করে অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পরপরই নেতানিয়াহুর ভাগ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও জল্পনা।
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরসিপি) দাবি করেছে, তাদের ছোঁড়া ‘খায়বার’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং দেশটির বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ম দফার এই ইরানি হামলায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের মিডিয়ার তথ্যমতে, আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক হামলার দশম ঢেউ ছিল। হামলার পরপরই ইরান দাবি করে, নেতানিয়াহুর বর্তমান অবস্থা ‘অস্পষ্ট’।
আইআরসিপি-র জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অপরাধী শাসকের প্রধানমন্ত্রীর কম্পাউন্ড এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং আকস্মিক অভিযান ছিল।
নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান
ইরানের পক্ষ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হলেও, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা নেতানিয়াহুর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বেইত শেমেশ (Beit Shemesh) এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পর নেতানিয়াহু সেখানে তাঁর পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগে তাঁর একটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়েছিল, যার পর থেকে জনসমক্ষে বা ভিডিওতে তাঁকে আর দেখা যায়নি। ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো এই বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ১০ম দফার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের উন্নত প্রযুক্তির ‘খায়বার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে এই আঘাতকে সামরিক কৌশলের দিক থেকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছে ইরান।
