ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত নতুন মোড় নিল। ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের প্রতিটি অপরাধের কঠোর ও সমতুল্য জবাব দেওয়া হবে। এদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ওয়ানা (WANA) নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের রাডার ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শনাক্ত করার সক্ষমতা ইসরায়েলি বাহিনীর প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ইরানের এই হামলার ফলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম বিভ্রান্তির শিকার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলেও ইসরায়েলি রাডার তা ধরতে পারছে না, ফলে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে আঘাত হানছে। উল্টোদিকে, অনেক সময় ইরান থেকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র না ছাড়া হলেও ইসরায়েলের সাইরেন বেজে উঠছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন কোনো সতর্কবার্তা না থাকলে ক্ষেপণাস্ত্র আসছে না—এই নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। আবার সতর্কবার্তা বাজলেও তারা নিশ্চিত হতে পারছে না যে সত্যিই কোনো আক্রমণ হয়েছে কি না।
আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল তাদের একমাত্র যে বিষয়ে উন্নতি করেছে, তা হলো সংবাদ বা তথ্য সেন্সর করার ক্ষমতা। এছাড়া, ইসরায়েলিদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘নরকতুল্য’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তা এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে এই বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
