ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কেরল বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। মাথ্রুভূমি (Mathrubhumi) পরিচালিত একটি প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যে শাসক লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং বিরোধী ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে হতে পারে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সমীক্ষা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন নির্ভর করতে পারে মাত্র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফলাফলের উপর।
১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৭১টি আসন। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, এই মুহূর্তে কোনও জোটই স্বচ্ছন্দে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁতে পারছে না। সমীক্ষা অনুযায়ী, এলডিএফ প্রায় ৬৬টি আসন পেতে পারে, অন্যদিকে ইউডিএফের ঝুলিতে যেতে পারে প্রায় ৬২টি আসন। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম থাকায় রাজ্যের প্রায় ১২টি আসনকে ‘হাই কনটেস্ট’ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলিই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।
সমীক্ষা আরও বলছে, মোট আসনের হিসেবে এলডিএফ সামান্য এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা বিরোধী ইউডিএফের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে বিধানসভায় এলডিএফের যে শক্তি রয়েছে, তার তুলনায় তারা ৩২ থেকে ৩৬টি আসন পর্যন্ত হারাতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। বিপরীতে ইউডিএফ প্রায় ২০টি আসন পর্যন্ত বাড়তি লাভ করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে ভোটের লড়াই কার্যত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিতই থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অঞ্চলভিত্তিক ভোটের প্রবণতা
সমীক্ষায় কেরলের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক সমর্থনের স্পষ্ট ভিন্নতা ধরা পড়েছে। উত্তর কেরলে এলডিএফ সামান্য এগিয়ে থাকতে পারে—এখানে তাদের ঝুলিতে যেতে পারে ২৮টি আসন, যেখানে ইউডিএফ পেতে পারে ২৬টি। অন্যদিকে মধ্য কেরলে ছবিটা একেবারে উল্টো। সেখানে ইউডিএফের দাপট স্পষ্ট—সমীক্ষা অনুযায়ী তারা পেতে পারে প্রায় ২৭টি আসন, আর এলডিএফের ঝুলিতে যেতে পারে প্রায় ২১টি আসন। দক্ষিণ কেরলে আবার শাসক জোটেরই সুবিধা দেখা যাচ্ছে। সেখানে এলডিএফ প্রায় ২০টি আসন পেতে পারে, আর ইউডিএফ পেতে পারে প্রায় ১৫টি আসন।
মুখ্যমন্ত্রী পদে পছন্দ: হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা
মুখ্যমন্ত্রী পদে ভোটারদের পছন্দ নিয়েও সমীক্ষায় চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরা পড়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পেয়েছেন প্রায় ২৭.৮৫ শতাংশ সমর্থন, আর বিরোধী দলনেতা ভি. ডি. সতীশন পেয়েছেন প্রায় ২৭.৭৭ শতাংশ সমর্থন। এই সামান্য ব্যবধানই দুই নেতার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ছবি তুলে ধরছে। নেতৃত্বের তালিকায় আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন। এলডিএফের সিনিয়র নেতা কে. কে. শৈলজা পেয়েছেন প্রায় ১২.১ শতাংশ সমর্থন। ইউডিএফের বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিথালা পেয়েছেন প্রায় ১২.০৬ শতাংশ সমর্থন। এছাড়াও কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর-এর নামও ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।
জনপ্রিয় বিধায়কদের প্রভাব
সমীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রিয় বিধায়কদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা জোটগুলিকে নির্দিষ্ট আসনে সুবিধা করে দিচ্ছে।
এলডিএফের মধ্যে পর্যটনমন্ত্রী পি. এ. মহম্মদ রিয়াস-এর অনুমোদনের হার ৭৬ শতাংশেরও বেশি, আর আজিকোডের বিধায়ক কে. ভি. সুমেশ নিজের কেন্দ্রে ৭৭ শতাংশের বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ইউডিএফ শিবিরেও রমেশ চেন্নিথালা-র অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশের বেশি, আর ভি. ডি. সতীশন নিজের কেন্দ্রে প্রায় ৭০ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন বলে সমীক্ষা জানিয়েছে।
এনডিএর উপস্থিতি
সমীক্ষায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এর উপস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বেশ কিছু আসনে এনডিএ দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এলেও আপাতত কোনও নির্দিষ্ট আসনে তাদের পরিষ্কার জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে নেমোম আসনে এলডিএফের সম্ভাব্য ভোটশেয়ার ৪১ শতাংশ, যেখানে এনডিএর ভোট প্রায় ৪০ শতাংশ। একইভাবে কাঝাকুট্টম আসনেও এনডিএ প্রায় ৩৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে সমীক্ষা জানিয়েছে।
এই সমীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ের পরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রার্থী ঘোষণা বা জোটগত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলি এখনও ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও থেকেই যাচ্ছে।
