ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তার খাতিরে নিয়োজিত হয়েও শত্রুপক্ষকে গোপন তথ্য পাচারের গুরুতর অভিযোগ। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর (ISI) হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ এটিএস-এর জালে ধরা পড়লেন ভারতীয় নৌসেনার ২৪ বছর বয়সী এক ল্যান্স নায়েক। ধৃত জওয়ানের নাম আদর্শ কুমার ওরফে লাকি।
কীভাবে চলত চরবৃত্তি?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, আগ্রার কাগারােল থানা এলাকার চিতাপুরের বাসিন্দা আদর্শ কোচির সাউদার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পাকিস্তানের জনৈক আইএসআই হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। অভিযোগ, আদর্শ কেবল গুরুত্বপূর্ণ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের ছবি এবং কৌশলগত অবস্থানই পাচার করেননি, বরং নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পাক হ্যান্ডলারের অ্যাকাউন্টে টাকাও পাঠিয়েছেন।
এটিএস-এর অভিযান
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশ এটিএস বেশ কিছুদিন ধরে আদর্শের ওপর বৈদ্যুতিন ও শারীরিক নজরদারি (surveillance) চালাচ্ছিল। ১০ মার্চ পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এটিএস-এর এক সিনিয়র আধিকারিক জানান, আমরা খবর পেয়েছিলাম যে এক ব্যক্তি পাক হ্যান্ডলারের সাথে যোগাযোগ রেখে ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচার করছে। তদন্তে নেমে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি খোদ নৌসেনার একজন ল্যান্স নায়েক।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধজাহাজ এবং নৌসেনার কৌশলগত অবস্থানের ছবি ও তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
গ্রেফতারের পর আদর্শ কুমারকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে তার মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এই চক্রে আর কেউ জড়িত কি না এবং ঠিক কতদিন ধরে তিনি এই কাজ করছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অন্দরে নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
