ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: “বিনা কারণে একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এবার বিচারবিভাগ পুলিশকে উচিত শিক্ষা দেবে”— মন্দির নিরাপত্তারক্ষী অজিত কুমারের হেফাজতে মৃত্যু মামলায় এই কড়া মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ। এই ঘটনাকে ‘স্পষ্ট পুলিশি হত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে ধৃত পুলিশ কর্মীদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি শ্রীমতী।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ জুন তিরুপ্পুবনমের মাদাপুরম ভদ্রকালী আম্মান মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষী অজিত কুমারকে গয়না চুরির অভিযোগে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ ছিল, মন্দির থেকে গয়না নিখোঁজ হয়েছে। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, সেই চুরির অভিযোগটি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অজিতের শরীরে প্রায় ৪০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল। পাশাপাশি পুলিশের মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল, যা এই নৃশংসতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
মামলাটি বর্তমানে সিবিআই (CBI) তদন্ত করছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানিয়েছে যে, অজিতের মৃত্যু একটি ‘কাস্টোডিয়াল কিলিং’ বা হেফাজতে হত্যা। যে চুরির অভিযোগে তাঁকে ধরা হয়েছিল, তার কোনো সত্যতা মেলেনি। আদালতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী আনন্দ, কান্নান, রাজা, প্রভু এবং শঙ্কর মণিকন্দনের জামিনের বিরোধিতা করে বিচারপতি শ্রীমতী বলেন, “একটি ভিত্তিহীন মামলার জেরে একজন নির্দোষ মানুষকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যে ব্যক্তি এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছিল, তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?” বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের জেলেই থাকতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ফেব্রুয়ারি।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন আগেই এই মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অজিত কুমারের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তদন্ত যাতে স্বচ্ছ হয় তার আশ্বাস দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই জানিয়েছে, এই ঘটনায় একজন ডিএসপি এবং একজন ইন্সপেক্টরসহ মোট ১০ জন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেরার নাম করে এই পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
