ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে সরকারি স্বীকৃতি ছাড়াও কোনো মাদ্রাসা পরিচালিত হতে পারে বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শ্রাবস্তী জেলার একটি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে আদালত এই রায় দেয়। একইসঙ্গে, স্বীকৃতিহীন ওই মাদ্রাসাটির তালা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যোগী সরকারকে।
২০২৫ সালের মে মাসে শ্রাবস্তী জেলার সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক ‘আহলে সুন্নাত ইমাম আহমদ রাজা’ নামক একটি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতিহীন হওয়ার কারণে সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকারের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তাদের যুক্তি ছিল, যেহেতু তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য বা সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে না, তাই স্বীকৃতি না থাকার অজুহাতে মাদ্রাসা বন্ধ করা যায় না।
মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবী সৈয়দ ফারুক আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায় এবং সংবিধানের ৩০(১) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি জানান, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিন ধরনের হতে পারে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের থেকে সাহায্য বা স্বীকৃতি কোনোটিই চায় না, তারা সংবিধান প্রদত্ত নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী এই যুক্তিতে সম্মতি জানিয়ে বলেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার এমন কোনো আইনের কথা উল্লেখ করতে পারেনি যার ভিত্তিতে একটি স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া যায়।
সরকারি পক্ষের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসায় পড়লে পড়ুয়ারা সরকারি কোনো ডিগ্রি বা সুবিধা পাবে না, যা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর উত্তরে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এই মাদ্রাসা কোনো সরকারি অনুদান পাবে না। এই মাদ্রাসার পড়ুয়ারা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে না এবং তারা মাদ্রাসা বোর্ড প্রদত্ত কোনো যোগ্যতামান বা সার্টিফিকেটের দাবি করতে পারবে না।
তবে এই কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা আইনত সম্ভব নয়। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, “এই আদেশের প্রত্যয়িত কপি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবেদনকারী মাদ্রাসার সিল খুলে দিতে হবে।”
