ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: জমি-সিন্ডিকেট এবং পুলিশি অত্যাচার সহ্য করতে পারছিলেন না। শেস পর্যন্ত নিজেকে শেষ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে বাধ্য হন এক ব্যক্তি। পুলিশি অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছেন উত্তরাখণ্ডের এক ব্যক্তি বলে অভিযোগ। রাজ্যের কাশীপুরে ওই আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি জমি-সিন্ডিকেট এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ তোলার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সুকওয়ান্ত সিং। উধম সিং নগর জেলার কাশীপুরের পাইগা এলাকার বাসিন্দা তিনি। রবিবার ভোর রাতে তিনি নৈনিতালের একটি হোটেলে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। ভাইরাল ভিডিওতে সুকওয়ান্ত অভিযোগ করেন, কাশীপুরের একটি চক্র জমি দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, ৩ কোটি টাকা নগদে এবং ১ কোটি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হলেও তাকে দেখানো প্লটের পরিবর্তে অন্য জমি হস্তান্তর করা হয়। তিনি ভিডিওতে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে জানান, তার অভিযোগ পুলিশের কাছে যাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নিয়ে বরং পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। উধম সিং নগরের পুলিশ সুপার এবং আইটিআই থানার কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করেছেন। গত চার মাস ধরে বিভিন্ন দফায় থানায় গেলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি তার স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে থানায় নিয়ে গিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভিডিওতে সুকওয়ান্ত সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমার মৃত্যুর জন্য ভিডিওতে উল্লিখিত ব্যক্তিরাই দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমার পরিবার ন্যায় পাবে না।” সূত্রের খবর, ভিডিওতে মোট ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আটজন মহিলা।
এবিষয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার সিংয়ের স্ত্রী প্রদীপ কৌর এবং ১২ বছরের ছেলে গুরসেজকে নিয়ে নৈনিতালের দেবভূমি হোটেলে ওঠেন। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি হোটেল কক্ষে গুলিবর্ষণ করেন। প্রথমে ছেলের ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী বাধা দিয়ে তাকে সরিয়ে দেন। এতে স্ত্রী-ছেলে দু’জনই আহত হয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর সিং নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে ঘটনার ভাইরাল ভিডিওকে গুরুত্ব দিয়ে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কার সিং ধামী সোমবার একটি ম্যাজিস্টেরিয়াল তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুমায়ুঁ কমিশনার ও আইএএস কর্মকর্তা দীপক রাওয়াতকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে এবং দোষী প্রমাণিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
