TOP NEWS

মহারাষ্ট্র পুর নির্বাচন: ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭০ আসনে জয়, পদ্মজোটকে ‘স্বৈরতন্ত্র’ তোপ বিরোধীদের

ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। ভোট প্রক্রিয়া এখন সম্পন্নই হয়নি, এরমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭০টি আসনে জয় পেল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাজুটি। মোট ৭০টি আসনের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে মাত্র দু’জন বাদে বাকি সবাই শাসক জোটের প্রার্থী। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জানুয়ারি এবং ভোট গণনা ১৬ জানুয়ারি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭০ জনের মধ্যে ৪৪ জন বিজেপির, ২২ জন একনাথ শিন্ডে-নেতৃত্বাধীন শিবসেনার এবং ২ জন অজিত পাওয়ার-নেতৃত্বাধীন এনসিপির। একজন প্রার্থী একটি ইসলামিক দলের এবং আরেকজন স্বতন্ত্র। বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ)-র কোনো প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পাননি।

সূত্রের খবর, বিজেপির ৪৪টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের মধ্যে কল্যাণ-ডোম্বিভলি পুরসভায় ১৫টি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। পানভেল, জলগাঁও ও ভিওয়ান্ডি থেকে ছ’জন, ধুলে থেকে চারজন, আহিল্যা নগর থেকে তিনজন এবং পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা থেকে দু’জন করে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। শিবসেনার ক্ষেত্রে মোট ২২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে থানে ও কল্যাণ-ডোম্বিভলি থেকে সাতজন করে, জলগাঁও থেকে ছয়জন এবং ভিওয়ান্ডি পুরসভা থেকে দু’জন রয়েছেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শাসক দল ও তাদের প্রভাবশালী নেতারা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে নিজেদের প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতিয়ে নিচ্ছেন। এক বিরোধী নেতা দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “টাকা কাজ না করলে হুমকি দেওয়া হয়। পুরনো পুলিশি মামলার ফাইল খুলে আবার সক্রিয় করা হয়। তাতেও কাজ না হলে সহিংসতার পথ নেওয়া হয়। সোলাপুরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করায় এক এমএনএস কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা স্বৈরতন্ত্র।”

শিবসেনা (ইউবিটি) এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধী প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এক্স-এ লেখেন, “রিটার্নিং অফিসারদের গভীর রাত পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক বন্ধু আমাকে বলেন, বিকেল ৩টের পর এই ফর্ম গ্রহণ করা যায় না। এক শাসক দলের নেতা অনুরোধ এবং হুমকি দু’টোরই মতো বলেছেন, স্থানীয় বিধায়ক যা বলছেন, সেটাই শোনা উচিত।” রাউতের সাফ কথা, “এটা গণতন্ত্রের নামে মবতন্ত্র। একদিন বাংলাদেশ ও নেপালের মতো জনঅভ্যুত্থান হবে।”

এমএনএস নেতা অবিনাশ যাদব কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ভোটের আগেই যদি জয় নিশ্চিত করতে চান, তবে নির্বাচনই বা কেন? শাসক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আসন বণ্টন করে নিলেই হয়। ভারত ও রাজ্যে গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে। বিরোধীদের দুর্বল প্রার্থী বেছে নিয়ে নিজেদের কাজ সেরে নেওয়া হয়েছে।” শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্তও অভিযোগ, শাসক দলগুলি বিরোধী প্রার্থীদের উপর চাপ প্রয়োগ করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!