ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে এক নয়া মোড়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা বরখাস্তের প্রস্তাব আনতে চলেছে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলি। মঙ্গলবারই এই বিষয়ে বিরোধী জোটকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। বুধবার সেই আহবানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিলমোহর দিল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি (SP)।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এআইসিসি (AICC) সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। বুধবার তিনি জানান, “দেশের সমস্ত বিরোধী দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ করবে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমার বিশ্বাস, সমগ্র বিরোধী শিবির এই প্রাসঙ্গিক ইস্যুতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।”
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও মমতার এই প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া (SIR প্রক্রিয়া) এবং কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে, কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের ভোটার তালিকায় যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে, তার দায় সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর চাপিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আসলে ২০২৬-এর নির্বাচনী রণকৌশলের অংশ। ‘কমন ইস্যু’তে সব দলকে এক ছাতার তলায় আনতে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো যেভাবে ময়দানে নেমেছেন, তাতে সাফল্য আসায় জাতীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ল। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব কার্যকর করতে গেলে সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এই প্রস্তাব পাস করানো কঠিন হলেও, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করতে চায় বিরোধী জোট।
