TOP NEWS

ইসলামোফোবিয়ার কাল্পনিক গল্প ফাঁদতে ওস্তাদ: জাতিসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানকে কড়া আক্রমণ নয়াদিল্লির

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: জাতিসংঘের মঞ্চে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি নিয়ে পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। নাম না করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটিকে আয়না দেখিয়ে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বথানেনি হরিশ প্রশ্ন তোলেন, যারা নিজেদের দেশে আহমদিয়াদের ওপর নৃশংস দমনপীড়ন চালায়, তাদের মুখে অন্য দেশের সমালোচনা মানায় না। গত সোমবার (১৬ মার্চ) ‘আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় ভারত এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। এদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বথানেনি হরিশ বলেন, ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশটি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইসলামোফোবিয়ার কাল্পনিক গল্প ফাঁদতে ওস্তাদ। তবে সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেননি তিনি।

রাষ্ট্রদূত হরিশ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, “কেউ ভাবতেই পারে, এই দেশে আহমদিয়াদের ওপর যে নৃশংস দমনপীড়ন চলে, তাকে কী নামে অভিহিত করা হবে? কিংবা রমজানের এই পবিত্র মাসে অসহায় আফগানদের জোরপূর্বক বিতাড়ন বা বিমান হামলার ঘটনাগুলোকেই বা কী বলা হবে?”

ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাষ্ট্র এবং অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি—উভয় পক্ষই এই কাজ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন হরিশ। ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে ২০ কোটিরও বেশি মুসলিম বাস করেন। জম্মু ও কাশ্মীরসহ ভারতের সমস্ত মুসলিম নাগরিক নিজেদের প্রতিনিধি নিজেরাই নির্বাচন করেন। ভারতে একমাত্র ‘ফোবিয়া’ বা ভীতি যদি কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো ভারতের বহুত্ববাদী ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধে একদল মানুষের বিদ্বেষ। রাষ্ট্রদূত আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ভারত ‘সর্ব ধর্ম সমভাব’ দর্শনে বিশ্বাসী, যা ভারতীয় সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি।

১৯৮১ সালের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্য দূরীকরণ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে নয়াদিল্লি জানায়, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে বিশেষ সুবিধা না দিয়ে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই আধুনিক সভ্যতার লক্ষ্য হওয়া উচিত। জাতিসংঘকে সময় ও সম্পদ ব্যয় করে এমন এক সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে যেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সমমর্যাদা ও আইনের শাসনের সুযোগ পায়। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির বক্তব্য, “ইসলামোফোবিয়ার কাল্পনিক গল্প তৈরির বদলে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং মৌলবাদ দমনে মনোযোগী হওয়া উচিত প্রতিবেশী দেশটির।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!