ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ (Operation True Promise 4)-এর অংশ হিসেবে চালানো শক্তিশালী পাল্টা হামলায় ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।
ইরানি সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এই ভয়াবহ সংঘাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের এই বিমান হামলায় আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নৌবহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে সফল হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী (ইসরায়েল) শক্তির যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ নাগরিকরা নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই ইরান তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় আকাশপথ ও মিসাইল হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যারা মূলত বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের সমন্বয় ও অভিযানের পরিকল্পনা করে থাকে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মার্কিন সামরিক পরিকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
