TOP NEWS

মধ্যপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা: ভস্মীভূত বাস, ভাঙচুর বহু বাড়ি ও গাড়ি, জারি ১৪৪ ধারা

(Representational Image || Credit: AI)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের নিজের জেলা উজ্জয়িনীর তরানা শহরে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দফায় দফায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) এক যুব নেতার ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তরানার শুক্লা গলি এলাকায় ভিএইচপি-র গো-সেবা সেলের জেলা প্রধান সোহেল ঠাকুর বুন্দেলার সঙ্গে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন যুবকের বচসা বাধে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দাঁড়িয়ে থাকা এবং একে অপরের দিকে তাকানো নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক দ্রুত শারীরিক নিগ্রহে রূপ নেয়। সোহেল ঠাকুর গুরুতর জগত হন। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা তাঁকে অত্যধিক ‘গো-সেবা’র কাজ করতে বারণ করে শাসিয়েছিল।

রণক্ষেত্র তরানা: দুই দিনের তাণ্ডব

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার রাতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাথর বৃষ্টি শুরু হয়। বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই ডজনেরও বেশি যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শুক্রবার জুমার নামাজের পর পরিস্থিতি আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের সশস্ত্র যুবকরা মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার ৫ থেকে ১০টি থানার অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীকে তরানায় তলব করা হয়। শুক্রবারের তাণ্ডবে অন্তত ১৩টি বাস, ১০টি গাড়ি এবং বেশ কিছু বাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। ৪ থেকে ৬টি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মহিলাদের অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিও

এলাকার নারীদের অভিযোগ, তরবারি, রড ও লাঠি নিয়ে একদল লোক বসতি এলাকায় ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘরে পাথর ছুঁড়েছে। এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়েও হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতা তালাবন্ধ বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে এবং দুই পক্ষের সশস্ত্র যুবকরা একে অপরকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

গ্রেপ্তার ও বুলডোজার দাবি

পুলিশ সদর দপ্তরের আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) অংশুমান সিং জানিয়েছেন, ভিএইচপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১৫-২০ জনকে আটক করা হয়েছে। উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দাঙ্গাবাজদের শনাক্ত করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতের সামনে দিয়ে মিছিলে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের বাড়িতে বুলডোজার চালানোর দাবিতে তরানা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ভিএইচপি সমর্থকরা।

মুখ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

দাভোস সফর থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব জানিয়েছেন, “হিংসায় জড়িত কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তরানার শহর কাজি সফিউল্লাহ এবং স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মহেশ পারমার জানিয়েছেন যে, এই শহরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং আগে কখনও এমন বড় সংঘর্ষ হয়নি। তাঁরা দাবি করেন, বৃহস্পতিবারের অপরাধের জন্য দোষীদের শাস্তি হোক, কিন্তু সেই অজুহাতে সাধারণ মানুষদের যেন হেনস্থা না করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!