ডিডি ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার মাহু এলাকায় দূষিত পানীয় জল পান করে শিশুসহ অন্তত দুই ডজন মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পট্টি বাজার এবং চন্দর মার্গ এলাকায় একের পর এক অসুস্থতার খবর আসতে শুরু করে। মতিমহল এলাকার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরবরাহ করা জল ছিল কর্দমাক্ত এবং দুর্গন্ধযুক্ত। এই জল পান করেই স্কুলপড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী আলিনা অসুস্থতার কারণে প্রি-বোর্ড পরীক্ষা দিতে পারেনি। ১২ বছরের গীতানশ এবং ৯ বছরের লক্ষিতাও বর্তমানে জন্ডিসের সঙ্গে লড়াই করছে। এলাকাবাসীর দাবি, পানীয় জলের পাইপ নর্দমার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় জল বিষাক্ত হয়ে পড়েছে— এই মর্মে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত রাতে ইন্দোরের কালেক্টর শিবম ভার্মা মাহু এলাকা সফর করেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMHO) ডাঃ মাধব হাসানির নির্দেশে শুক্রবার সকালে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ইন্দোর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ঊষা ঠাকুরও আক্রান্তদের দেখতে হাসপাতালে যান।
মাহু এলাকায় এখনও প্রাণহানির খবর না থাকলেও, মাত্র ৬০ কিমি দূরে ইন্দোর শহরে দূষিত জলের কারণে গত কয়েক দিনে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারই হেমানি গায়কোয়াড় (৫১) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গত ২২ ডিসেম্বর দূষিত জল পান করে তিনি বমি ও ডায়েরিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশ সরকার হাইকোর্টে স্বীকার করে নিয়েছে যে, পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান সচিব অনুরাগ জৈন আদালতকে জানান, ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকার ৫১টি টিউবওয়েলের জলে ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। নর্দমার জলের সাথে পানীয় জল মিশে যাওয়ার ফলেই এই মারাত্মক বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-কোলাই মিশ্রিত জল পান করলে বমি, ডায়েরিয়া, তীব্র পেটব্যথা ও জ্বর হতে পারে।
