নিজস্ব সংবাদদাতা, ইসলামপুর: মুর্শিদাবাদের ইসলামপুর থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। খুনকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতককে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম রাজ্জাক আলি (৪৮), সে জলঙ্গির ভাদুরিয়াপাড়ার বাসিন্দা। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে, পাওনা টাকা মেটাতে না পেরে অপমানের ভয়েই সে শরিফুল আনসারী (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে।
মঙ্গলবার সকালে ইসলামপুর থানার রায়পুর কালীতলা সংলগ্ন একটি কলাবাগান থেকে শরিফুল আনসারীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ডোমকলের এতবার নগরে। শরিফুলের মাথায় গভীর ক্ষত ছিল; রডের আঘাতে মাথা কার্যত দুই ভাগে ফেটে গিয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে নেমেই পুলিশ মৃতের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট খতিয়ে দেখে রাজ্জাকসহ দু’জনকে আটক করে।
Also Read: ইসলামপুরে ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ডোমকলের ব্যক্তির
পুলিশি জেরায় রাজ্জাক আলি স্বীকার করেছে, সে শরিফুলের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। শরিফুল বারবার টাকা ফেরত চাইলেও রাজ্জাক তা দিতে পারছিল না। অভিযোগ, শরিফুল হুমকি দিয়েছিলেন যে টাকা না পেলে তিনি রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে সব জানিয়ে দেবেন। এই ‘অপমানের’ হাত থেকে বাঁচতেই রাজ্জাক শরিফুলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, সোমবার রাতে টাকা দেওয়ার নাম করে সরিফুলকে ডোমকল থেকে ইসলামপুরের রায়পুরে ডেকে আনে রাজ্জাক। কলাবাগানের নির্জনতায় বসে প্রথমে দুজনে গাঁজা খায়। শরিফুল নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে রাজ্জাক লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর রাজ্জাক ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। ডোমকলের এসডিপিও (SDPO) শুভম বাজাজ জানিয়েছেন, “মোবাইল লোকেশন ও কল রেকর্ডের সূত্র ধরে আমরা দু’জনকে আটক করি। দীর্ঘ জেরার পর রাজ্জাক নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। খুনে ব্যবহৃত লোহার রডটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।” বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ শরিফুল আনসারী পরিবার দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
