TOP NEWS

মুসলিমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী: সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে আরও বেপরোয়া হিমন্ত

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক বেশ কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াতে তিনি দেশের আইন ও আদালতকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। রিকশা চালকদের ভাড়া থেকে শুরু করে জনবিন্যাস পরিবর্তন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় এখন রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়।

সম্প্রতি গোয়ালপাড়ায় সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি জানান, মুসলিম রিকশাচালকদের ভাড়ার টাকা কম দেওয়ার যে নিদান তিনি দিয়েছেন, তা আদতে ‘আইনসম্মত’। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, “দেশের আইন বলছে এ দেশে মুসলিমদের রিকশা চালানোর কথা নয়। আমি আইন মতো কাজ করলে তাদের রিকশা চালানোই বন্ধ হয়ে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মুসলিমরা মূলত ‘বাংলাদেশি’ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাই তাদের এ দেশে রিকশা চালানোর অধিকার নেই। তবে দেশের ঠিক কোন আইনে মুসলিমদের রিকশা চালানো নিষিদ্ধ, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

কেবল মৌখিক নির্দেশ নয়, নিজের মন্তব্যের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকেও টেনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট নাকি আসামের নিম্ন অঞ্চলের জেলাগুলোতে ‘জনবিন্যাসগত আগ্রাসন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হিমন্তের দাবি অনুযায়ী, অবৈদ অনুপ্রবেশের ফলে আসামের জেলাগুলো মুসলিম নিবিড় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই জেলাগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে একীভূত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট কবে বা কোন রায়ে ঠিক এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র মুখ্যমন্ত্রী প্রদান করেননি।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনীকে হাতিয়ার করে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। অভিযোগ উঠেছে, ফরম-৭-এর অপব্যবহার করে গণহারে নাম কাটার প্রক্রিয়া চলছে। এমনকি রাতের অন্ধকারে সরকারি দপ্তরে বসে এই কাজ করার সময় হাতেনাতে বিজেপি নেতা ধরা পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনে এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি বিরোধীদের।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সমাজকর্মী ও লেখক হর্ষ মান্দার। তিনি দিল্লির একটি থানায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “হর্ষ মান্দার আমার পেছনে লেগে পার পাবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ১০০টি এফআইআর দায়ের করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ এবং ভিত্তিহীন মন্তব্য প্রমাণ করতে চাইছে, শাসকদলের নেতাদের দায়বদ্ধতা বা আইনি ভয় নেই। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে যেকোনো স্তরের মেরুকরণ করতে তারা পিছপা হচ্ছেন না। বিচারব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো কেন এই ধরণের স্পর্শকাতর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে এখন জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!