ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যসভায় নিজের প্রথম ভাষণেই দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হলেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ তথা ‘মক্কাল নিধি মইয়ম’ (MNM)-এর প্রধান কমল হাসান। বুধবার উচ্চকক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের ভোটার তালিকায় বিপুল অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়াকে একটি ‘ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেন।
নিজের ভাষণে কমল হাসান বিহারকে “জীবন্ত মৃতের দেশ” বলে কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যারা আসলে জীবিত, কিন্তু কাগজে-কলমে তাদের মৃত দেখানো হয়েছে। বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলা থেকে আমার ‘দিদি’ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এই একই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি এখন সুপ্রিম কোর্টে এই লড়াই চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাধি ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে।” তামিলনাড়ুর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৯৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এইভাবে চলতে থাকলে দ্রুতই সেখানে “এক কোটি জীবন্ত মৃত” তৈরি হবে। ভুল বানানের অজুহাতে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “ইন্টারনেট বা আধুনিক সাহিত্য ভুল বানান ক্ষমা করলেও নির্বাচন কমিশন তা করে না। ইসি (EC) মানে ‘ইংলিশ কোচ’ নয়।”
যুক্তিবাদী এই নেতা সরকারকে মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্রে কেউই চিরস্থায়ী নয়। তিনি বলেন, “আমি এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করব না, কারণ আমার যুক্তিবাদী মন অনেক আগেই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আমি সরকারের কাছেও ভিক্ষা চাইছি না। আমি দাবি জানাচ্ছি যে, এই জীবন্ত মৃতদের তালিকায় ফিরিয়ে আনা হোক। কোনো জাদুমন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করার সময় আমাদের নেই।”
অন্যদিকে, বুধবারই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগতভাবে সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। ডিএমকে (DMK) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) মতো দলগুলো আগে থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। কমল হাসানের এই আক্রমণাত্মক এবং আবেগঘন ভাষণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ এটি বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
