ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আসামে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে “ভোট চুরি” নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। শুক্রবার তারা বিজেপির বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার “ষড়যন্ত্র” করার অভিযোগ তুলে পুলিশ এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) কাছে পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।
চলমান বিশেষ সংশোধন (স্পেশাল রিভিশন) প্রক্রিয়ার সময় অন্য রাজ্য থেকে “অস্থায়ী ভোটার” অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তুলেছে আসাম কংগ্রেস। শুক্রবার ডিসপুর থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে ছিল একাধিক বিরোধী দল। কংগ্রেসের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান রিপুন বোরার নেতৃত্বে থানায় যান রাইজর দল, অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই(এমএল) এবং সিপিআই(এম)-এর নেতারা। উল্লেখ্য, এ বছরের শেষের দিকে হতে চলা নির্বাচনের আগে এই দলগুলিই বিজেপি-বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
একই দিনে রাইজর দল ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে “আসামে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করার পরিকল্পনা” করার অভিযোগ তোলা হয়। বিরোধী দলগুলির এই অভিযোগের সূত্রপাত রাইজর দলের প্রধান ও শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈয়ের বক্তব্য থেকে। তিনি দাবি করেন, রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের বিজেপি নেতাদের একটি বৈঠক তিনি শুনেছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে অখিল গগৈ অভিযোগ করেন, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া নাকি বিধায়ক, জেলা সভাপতি ও মণ্ডল সভাপতিদের নির্দেশ দিয়েছেন—যে সব বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির পক্ষে ভোট পড়েনি, সেই ৬০টি কেন্দ্রের প্রতিটি বুথ থেকে ‘বিজেপি-বিরোধী’ বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার তালিকা জমা দিতে।
এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দিলীপ সাইকিয়া। তাঁর কথায়, “ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার কাজ নির্বাচন কমিশনই করে। বিরোধীদের এ বিষয়ে ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞান নেই। বিহারেও তারা এমন চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই বুথ লেভেল এজেন্ট রয়েছে, যারা সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ। “একই ভোটার তালিকায় ৩০ বছর আগে মারা যাওয়া মানুষের নাম রয়ে গেছে। এমন মানুষও আছেন, যারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বা টানা চারটি নির্বাচনে ভোট দিতে আসেননি। এই ধরনের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা চিহ্নিত ও সংশোধন করা নির্বাচন কমিশনের যেমন দায়িত্ব, তেমনই জনগণেরও দায়িত্ব। আমরা একটি সঠিক ভোটার তালিকা চাই,” বলেন সাইকিয়া। তবে বিরোধী দলগুলি এই অভিযোগ ঘিরে বিজেপির উপর চাপ বাড়িয়েই চলেছে।
ডিসপুর থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, “এটি আসলে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। তাই দোষী ব্যক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা হোক, যাতে আসামে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়।” পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে রাইজর দল বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিজেপির বৈঠক নিয়ে তদন্ত এবং গত তিন মাসে আসাম জুড়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে জমা পড়া আপত্তির আবেদনগুলির অডিট করার কথাও বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বা রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলির বিপরীতে আসামে বর্তমানে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নয়, বরং স্পেশাল রিভিশন প্রক্রিয়া চলছে। কারণ, রাজ্যটিতে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, যার চূড়ান্ত পর্ব এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আসামে স্পেশাল রিভিশনের মূল অংশ ছিল বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার শারীরিক যাচাই। তবে এসআইআরের মতো এই প্রক্রিয়ায় কোনও নথি যাচাই করা হয়নি। এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ২৭ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্ব চলছে, যা আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
