TOP NEWS

‘আমি মুর্শিদাবাদেরই ছেলে, বহিরাগত তকমা অপপ্রচার’: জলঙ্গিতে জয় নিয়ে আশাবাদী ‘মাস্টারমশাই’ বাবর আলি

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জলঙ্গি কেন্দ্রে তৃণমূলের বাজি এখন ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রধান শিক্ষক’ বাবর আলি। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে যেমন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তেমনই ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিরোধীদের আক্রমণও শুরু হয়েছে। বুধবার সেই সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতে এবং নিজের আগামীর রূপরেখা স্পষ্ট করতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল প্রার্থী বাবর আলি।

জলঙ্গিতে অতীতে বহিরাগত প্রার্থীদের হারের পরিসংখ্যান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা চর্চাকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন বাবর আলি। তিনি বলেন, “আমি দেখেছি অনেকেই বলছেন জলঙ্গিতে বহিরাগতরা জিততে পারে না। কিন্তু এবার ইতিহাস বদলাবে। আমি মুর্শিদাবাদ জেলারই ছেলে, এটাই আমার বড় পরিচয়। প্রার্থী হওয়ার পর থেকে জলঙ্গির মানুষের যে অভূতপূর্ব সাড়া আমি পেয়েছি, তাতে আমি জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।” জলঙ্গিতে প্রার্থী করায় এবং ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলে জলঙ্গির জন্য তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই শিক্ষাব্রতী। বাবর আলির বক্তব্য, গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত উন্নতি ও বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা। প্রান্তিক স্তরে শিক্ষার মানোন্নয়ন। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান। ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য স্থানীয় স্তরে কাজের সুযোগ তৈরি করা।

বাবর আলির রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ওঠা একটি বিশেষ বিতর্ক নিয়েও এদিন তিনি মুখ খোলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আরএসএস (RSS) ঘনিষ্ঠতার অভিযোগকে সরাসরি নস্যাৎ করে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি রাজনৈতিক অপপ্রচার। আমি কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমি বারাক ওবামার মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, তার মানে এই নয় যে আমি কোনো বিশেষ আদর্শের অনুসারী। আমার পরিচয় আমার কাজে।”

বাবর আলির মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে প্রার্থী করে তৃণমূল জলঙ্গিতে যে ‘চমক’ দিয়েছে, তা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই এখন দেখার। একদিকে তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘বহিরাগত’ তকমা—এই দ্বৈরথে জলঙ্গির রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!