TOP NEWS

চলতি বছরে ২৪ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে ডিপোর্ট, শীর্ষে কোন দেশ!

(File Photo)

ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: চলতি বছরে বিশ্বের বহু দেশ ভারতীয় নাগরিককে প্রত্যর্পণ (ডিপোর্ট) করেছে। বিশ্বের ৮১টি দেশ থেকে ২৪ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে দেশে। রাজ্যসভায় এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্র। এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশমন্ত্রক বলেছে, ২০২৫ সালে ৮১টি দেশ থেকে ২৪,৬০০-রও বেশি ভারতীয় নাগরিককে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব।

১৮ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় বিদেশমন্ত্রকের পরিসংখ্যান দিয়ে বলছে, চলতি বছরে সৌদি আরব থেকেই ১১ হাজার ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ জন ভারতীয়কে। যা গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ। আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের অধিকাংশই ছিলেন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ৩,৪১৪ জন এবং হিউস্টন থেকে ২৩৪ জন ভারতীয় নাগরিককে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এছাড়াও মায়ানমার (১,৫৯১), মালয়েশিয়া (১,৪৮৫), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (১,৪৬৯), বাহরিন (৭৬৪), থাইল্যান্ড (৪৮১) এবং কম্বোডিয়া (৩০৫) থেকে ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, বহু ভারতীয় পড়ুয়াকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি পড়ুয়াকে ফেরৎ পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। ডিপোর্টেশনের সংখ্যা ১৭০। এরপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (১১৪), রাশিয়া (৮২) এবং যুক্তরাষ্ট্র (৪৫)।

কেনো ভারতীয়দের ডিপোর্ট! বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ডিপোর্টেশনের সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ভিসা ও আবাসিক অনুমতির মেয়াদ অতিক্রম করা, বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া কাজ করা, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া কিংবা ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় জড়িয়ে পড়া। এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, অধিকাংশ দেশ অবৈধ অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ভাগ করে না, শুধুমাত্র ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনে এই তথ্য চাওয়া হয়। ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়াও দেশভেদে আলাদা—কোথাও অভিযুক্তকে আটক করে রাখা হয়, আবার কোথাও বৈধ ভ্রমণ নথি থাকলে সরাসরি ফেরত পাঠানো হয়। এই ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে মূলত নাগরিকত্ব যাচাই বা জরুরি ভ্রমণ সনদ (এমার্জেন্সি সার্টিফিকেট) জারির জন্য যোগাযোগ করা হয়।

এদিকে তেলেঙ্গানা সরকারের এনআরআই উপদেষ্টা কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ভীমা রেড্ডি এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক নির্মাণ, পরিচর্যা ও গৃহস্থালি কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রতারক এজেন্টের ফাঁদে পড়ে আইনি জটিলতার কারণে ডিপোর্টেশনের শিকার হয়েছেন। রেড্ডি আরও বলেন, মায়ানমার ও কম্বোডিয়ায় বেশি বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কিছু ভারতীয়কে অবৈধ কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে সাইবার অপরাধে বাধ্য করা হচ্ছে, যার জেরে ডিপোর্টেশন বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!