TOP NEWS

প্রতিবেশীদের ‘সরি’ বললেন পেজেশকিয়ান; তবে ‘আত্মসমর্পণ নয়’ বলেও হুঁশিয়ারি

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে চলমান যুদ্ধের আবহে এক নজিরবিহীন ভাষণে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, তেহরান ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালাবে না— তবে শর্ত একটাই, ওই সব দেশের মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ হওয়া চলবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরানের পক্ষ থেকে যে প্রতিবেশী দেশগুলো আক্রান্ত হয়েছে, তাদের কাছে আমি নিজের এবং ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি। আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে না, যদি না ইরান বিরোধী কোনো হামলা সেই সব দেশ থেকে উদ্ভূত হয়।” ক্ষমা চাইলেও সুর নরম করেননি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। আমেরিকার ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে’র দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণের ইচ্ছা শত্রুদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। আমরা কোনোভাবেই নতি স্বীকার করব না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থবির হয়ে পড়া পরমাণু চুক্তির জের ধরে আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে চালানো এই ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে (দুবাই, আবুধাবি, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন) থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেজেশকিয়ানের এই ক্ষমা প্রার্থনা মূলত প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং তাদের নিরপেক্ষ রাখার একটি কৌশল। তবে ইরানের এই ‘শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি’ প্রস্তাব আমেরিকা ও ইসরায়েল কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!